বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬   |   ২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ধীরে ধীরে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর দিকেও ছড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি ন্যাটোর একাধিক সদস্যদেশের আকাশসীমা ও জলসীমায় রুশ ড্রোন প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে।

এর মধ্যেই রোমানিয়ার জলসীমায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজে রাশিয়ার দুটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। হামলায় জাহাজটি ডুবে গেলে দুইজন নিহত হন।

গত সোমবার (৫ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে রোমানিয়ার কোস্টগার্ড জাহাজটিতে আগুন লাগার খবর পায়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজটি রোমানিয়ার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) মধ্যে ছিল।

এ ঘটনায় দুইজন নিহত এবং ১১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে জাহাজটিতে কীভাবে আগুন লাগল, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো তথ্য দেয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, নিরপেক্ষ জলসীমায় ভুট্টাবাহী একটি বেসামরিক জাহাজে রাশিয়ার দুটি ড্রোন হামলা চালায়। এতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরে ডুবে যায়। জাহাজটির মালিক তুরস্কের বলেও জানান তিনি।

হামলার সময় জাহাজটিতে আজারবাইজান ও ভারতের নাগরিকেরা ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

রোমানিয়ার জলসীমায় এ ধরনের ঘটনায় ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব দেশটির দিকে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। রোমানিয়া ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের কাছে অবস্থিত।

চলতি বছর দেশটির আকাশসীমা ও জলসীমায় রুশ ও ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রবেশের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে গত মে মাসে একটি রুশ ড্রোন রোমানিয়ার একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। জুনে ইউক্রেনের একটি সামুদ্রিক ড্রোন পথ হারিয়ে কৃষ্ণসাগরের কনস্টানতা বন্দরে বিস্ফোরিত হয়।

এরপর জুলাইয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে তিনটি ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিহত করা হয়। এ ঘটনায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বুখারেস্ট।

পূর্ব ইউরোপের আকাশসীমায় রুশ ড্রোনের এসব প্রবেশকে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতার পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ।

একইভাবে, যুদ্ধের সময় বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলোর আকাশসীমাতেও একাধিকবার ড্রোন প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে।

গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করে পোল্যান্ড। পাশাপাশি, মলদোভাতেও সন্দেহভাজন ড্রোন দুই দফায় ভূপাতিত করা হয়েছে।

রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৃষ্ণসাগরে ভেসে থাকা নয়টি সমুদ্র মাইন ধ্বংস করেছে দেশটির নৌবাহিনী।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version