বুধবার, ৪ঠা নভেম্বর, ২০২৬   |   ২০ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যথেষ্ট প্রমাণ না থাকায় বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মুমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা ৩ লাখ ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাহার করেছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন মিয়ানমার (অ্যামচ্যাম মিয়ানমার)। এর ফলে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিসও বাতিল হয়েছে। স্পেনের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ডিজাইন ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘মিসফিট টেকনোলজিস’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মুমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এপির বরাতে প্রকাশিত ইউএসনিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যামচ্যাম মিয়ানমারের অভিযোগের ভিত্তিতে দেশটির কর্মকর্তাদের অনুরোধে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে স্পেনের বার্সেলোনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হন মুমিনুল। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ছুটি কাটাতে স্পেনে গিয়েছিলেন তিনি।

অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পর স্পেনের বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ গত ২৬ অক্টোবরের এক নথিতে জানায়, মুমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সব আইনি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত ও খারিজ করা হয়েছে। এর আগে অক্টোবরের শুরুতে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি।

মুক্তির পর গত সোমবার যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এই বাংলাদেশি উদ্যোক্তা বলেন, তাঁর গ্রেপ্তারের ঘটনা ইন্টারপোলের নিরাপত্তাব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। এর সুযোগ নিয়ে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার ভিত্তিহীন অভিযোগে ইউরোপের একটি গণতান্ত্রিক দেশে কাউকে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করতে পেরেছে।

এ বিষয়ে ইন্টারপোল জানিয়েছে, মামলাসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তারা শুধু মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকেই দেবে। অন্যদিকে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সো লিন অং মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মামলার নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে কথা বলতে চান না বলে জানান তিনি। পরে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্রও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

ইউএসনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যামচ্যাম মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকেই মুমিনুলের গ্রেপ্তারের ঘটনা শুরু হয়। সংগঠনটির বর্তমান বোর্ড সদস্যরা মুমিনুল, সাবেক বোর্ড সভাপতি ও মার্কিন নাগরিক অ্যাডাম কাস্তিলো এবং সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও অস্ট্রেলীয় নাগরিক ইয়ে খাউংয়ের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনেন। ওয়াশিংটনে লবিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি মার্কিন জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান নিয়োগকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত।

পরে বিষয়টি ফৌজদারি মামলা হিসেবে তদন্ত শুরু করে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় কাস্তিলো ও ইয়ে খাউংকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুমিনুলের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারির আবেদন করা হয়। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনও হস্তক্ষেপ করে। গত সেপ্টেম্বরে কাস্তিলোর মুক্তি এবং তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনার জন্য মিয়ানমারে একটি প্রতিনিধি দল পাঠায় ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে, দোষ স্বীকার করার পর ইয়ে খাউংকে মিয়ানমার থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে দেশে ফেরার পর তিনি দাবি করেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের চাপে পড়ে তাঁকে দোষ স্বীকার করতে হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অ্যামচ্যাম মিয়ানমারের মূল অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন কাস্তিলো। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংগঠনটির সভাপতি থাকাকালে তিনি ‘ইউএস-বার্মা ইকোনমিক ফোরাম’ নামে একটি লবিং সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৪ সালে ‘মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও করেন তিনি।

অ্যামচ্যাম মিয়ানমারের অভিযোগ ছিল, কাস্তিলো অবৈধভাবে ৩ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই লবিং কার্যক্রমে মার্কারিকে যুক্ত করতে সংগঠনটির নাম ব্যবহার করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি অ্যামচ্যাম মিয়ানমারের বর্তমান নির্বাহী পরিচালক মিয়াত ফিউ থো। তবে এর আগে তিনি বলেছিলেন, ওই আর্থিক লেনদেনের কারণে সংগঠন ও বর্তমান বোর্ডের জন্য আইনি, আর্থিক এবং ফৌজদারি ঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা ছিল।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version