বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ২৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্পেনের দক্ষিণ আন্দালুসিয়া অঞ্চলের আদামুজে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পেছনে রেললাইনের ফাটলকে দায়ী করে নতুন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে স্প্যানিশ সিভিল গার্ড। তদন্তকারী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যে দুর্ঘটনায় ৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, সেই রেললাইনটি দুর্ঘটনার আগের দিন অর্থাৎ ১৭ই জানুয়ারি রাত ৯টা ৪৬ মিনিটেই ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু সিগন্যালিং সিস্টেমের ত্রুটির কারণে এই মারাত্মক ফাটলটি শনাক্ত করা যায়নি, যা শেষ পর্যন্ত শতাব্দীর অন্যতম বড় ট্রেন বিপর্যয়ে রূপ নেয়।

সিভিল গার্ডের তথ্যমতে, ১৮ই জানুয়ারির সেই দুর্ঘটনায় বেসরকারি সংস্থা ‘ইরিও’ পরিচালিত একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত লাইনে চলে যায় এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থা ‘রেনফে’-র একটি ট্রেনের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তদন্তে দেখা গেছে, রেললাইন ভাঙার সময় ভোল্টেজের অস্বাভাবিক তারতম্য বা বৈদ্যুতিক ত্রুটি ধরা পড়লেও নির্ভরযোগ্যতার অভাবে স্বয়ংক্রিয় সতর্কতা বার্তা দেওয়ার জন্য সিস্টেমটি কনফিগার করা ছিল না। তবে প্রতিবেদনে অন্তর্ঘাত, সন্ত্রাসবাদ বা চালকের অবহেলার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিবহন মন্ত্রণালয় খতিয়ে দেখছে কেন এই প্রযুক্তিগত সতর্কতা বার্তা সময়মতো পৌঁছায়নি।

স্প্যানিশ সরকার এই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে মোট ২০ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পরিবহন মন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানিয়েছেন, আহত ১৫০ জনের আঘাতের তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে ২,৪০০ থেকে ৮৪,০০০ ইউরো পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতে পারে।  

এদিকে, আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক সরকার সিভিল গার্ডের এই নতুন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

এই বিপর্যয়টি ইউরোপের রেল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরণের দুর্বলতা উন্মোচন করেছে। বর্তমানে স্পেনের রেল দুর্ঘটনা তদন্তকারী কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা দেশটির রেলওয়ের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতিমালায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version