সুইডেনের স্টকহোমে বোটকিরকা ক্রিকেট সেন্টারে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সিরিজে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করেছে পর্তুগাল ক্রিকেট দল। ১ জুলাই শুরু হওয়া দুই ম্যাচের সিরিজে প্রথম ম্যাচে ১২ রানে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ১৪ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের দাপুটে জয় পায় পর্তুগাল।
এই ঐতিহাসিক সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন পর্তুগাল জাতীয় দলের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার শিরাজ উল্লাহ খাদেম। ক্রিকেটাঙ্গনে তিনি ‘নিপু’ নামেই বেশি পরিচিত।
নিপুর ক্রিকেটযাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশে। ২০০৬ সালের শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের সম্ভাবনাময় তরুণদের একজন ছিলেন বাঁহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ও অলরাউন্ডার নিপু। সেই দলে ছিলেন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের মতো বর্তমান সময়ের তারকারাও।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ থেকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট সব জায়গাতেই নিয়মিত ছিলেন নিপু। কিন্তু ২০০৯ সালে ঢাকা লিগের অনুশীলনে বলের আঘাতে তাঁর বাঁ চোখে গুরুতর চোট লাগে। সেই দুর্ঘটনাই থামিয়ে দেয় তাঁর পেশাদার ক্রিকেট ক্যারিয়ার।
জীবনের কঠিন সময় পেরিয়ে ২০১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই ক্রিকেটার পাড়ি জমান পর্তুগালে। নতুন দেশে জীবন শুরু করলেও ক্রিকেটকে ছাড়তে পারেননি। ২০২০ সালে পর্তুগিজ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। এক বছর পর, ২০২১ সালে জায়গা করে নেন পর্তুগাল জাতীয় দলে।
সুইডেনের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর নিপুর গল্প আবারও আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে চোখের চোটে ক্যারিয়ার থেমে যাওয়া, এরপর ইউরোপের মাটিতে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে ফেরা নিপুর পথচলা প্রবাসী ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণার। পর্তুগালের হয়ে একদিন বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার স্বপ্নও দেখেন নিপু।
