শনিবার, ৩রা অক্টোবর, ২০২৬   |   ১৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির সাম্প্রতিক ঘটনায় ইরানের কোনো না কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল বলে বিশ্বাস করে যুক্তরাজ্য সরকার।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, ফেয়ারফোর্ডে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ইরানের জড়িত থাকার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।

গত রোববার রাতে ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির দিকে তিনটি সন্দেহজনক ভ্যান যাওয়ার খবর পায় পুলিশ। পরে ঘাঁটি থেকে প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরের উইলফোর্ড এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগ আনা হলেও পরে কঠোর শর্তে জামিন দেওয়া হয়।

বার্নহ্যাম বলেন, পাঁচজনকে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হলেও বিষয়টি সাধারণভাবে ‘মুক্তি’ পাওয়ার মতো নয়। তাঁদের ওপর কঠোর শর্ত রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ তাঁদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে তদারকি করছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাজ্য ‘ভুল পথে হাঁটছে’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে আরাগচি বলেন, বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জামিনে মুক্তি দেওয়ার ঘটনাই ‘সবকিছু বলে দেয়’।

সন্দেহভাজন পাঁচজনকে জামিন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। গত সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তিনি হলে তাঁদের জামিন দিতেন না। তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন ট্রাম্প।

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও বলেছিলেন, ফেয়ারফোর্ডের ঘটনায় কোনো বিদেশি শক্তির হাত থাকার ‘স্পষ্ট ইঙ্গিত’ রয়েছে। গত সোমবার ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, বিভিন্ন শক্তি, বিশেষ করে ইরান বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্বার্থে হামলার প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে আসছে—ঘটনাটি সেই বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

বার্নহ্যাম জানান, ফেয়ারফোর্ডের ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার। তদন্ত কীভাবে এগোচ্ছে এবং ঘটনাটি কীভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে, সে বিষয়েও তাঁদের অবহিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তদন্তে তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। উপযুক্ত সময়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে। তবে তদন্ত এখনো চলমান এবং এটি একটি জটিল ও গুরুতর পুলিশি তদন্তের অংশ।

ফেয়ারফোর্ডের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে যুক্তরাজ্য।

এদিকে পাঁচ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের আগে তাঁদের একজন নিজেই জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেছিলেন বলে জানা গেছে।

ফেয়ারফোর্ড কেন গুরুত্বপূর্ণ

গ্লস্টারশায়ারের কটসওল্ডসে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে আসছে। বিমানঘাঁটিটি ফেয়ারফোর্ড শহর থেকে প্রায় ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

কয়েক দশক ধরে সামরিক অভিযান পরিচালনা ও বিমান মোতায়েনের কাজে ঘাঁটিটি ব্যবহার করা হচ্ছে। স্নায়ুযুদ্ধের সময় এবং ১৯৯১ সালের প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় এটি মার্কিন বিমানবাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক এয়ার কমান্ডের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০০৩ সালে ইরাকে হামলার সময়ও এখান থেকে বি-৫২ বোমারু বিমান দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সাম্প্রতিক সময়েও ঘাঁটিটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফেয়ারফোর্ডে থাকা মার্কিন বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলারও অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।

এর আগে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছিল, ফেয়ারফোর্ড থেকে যেন মার্কিন বোমারু বিমান উড্ডয়ন করতে না দেওয়া হয়। ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে যে ঘাঁটি ব্যবহার করা হবে, সেটিতে পাল্টা হামলা করা হবে বলেও সতর্ক করেছিল তারা।

ফেয়ারফোর্ডের ঘটনার পর যুক্তরাজ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অন্যান্য সামরিক ঘাঁটিতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পূর্ব ইংল্যান্ডের আরএএফ লেকেনহিথের প্রবেশপথে সাঁজোয়া যান ও সেনাসদস্যদেরও দেখা গেছে।


শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version