যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে লন্ডনে বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ। এ সময় পুলিশের সতর্কতা উপেক্ষা করায় অন্তত ১৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
গত বছরের জুলাইয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের অধীনে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শনিবার লন্ডনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ করেন শত শত মানুষ। সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী বুধবার যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে আপিলের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, এখন পর্যন্ত ১৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনটির প্রতি সমর্থন প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের এই বক্তব্যের জবাবে লেবার পার্টির এমপি জন ম্যাকডোনেল এক্সে লেখেন, কোনো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই সংগঠনের প্রতি সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না। তাই এ ধরনের প্রতিবাদ গ্রেপ্তারযোগ্য অপরাধ হতে পারে না। প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত সরকার ভুল করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার পর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে শনিবারের সমাবেশটিই ছিল প্রথম বড় গণবিক্ষোভ। প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনপন্থীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে সংগঠনটিকে আল-কায়েদা ও আইএসের মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরায় মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরেও বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। তবে সেখানে কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। লন্ডন ও এডিনবরার বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘আমি গণহত্যার বিরোধী। আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
বিক্ষোভের আয়োজক সংগঠন ডিফেন্ড আওয়ার জুরির এক মুখপাত্র বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে গণহত্যার বিরোধিতা এবং প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের প্রতি নীরব সমর্থন জানানোর কারণে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৪ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।
প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই মুখপাত্র আরও দাবি করেন, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি থেকে নেওয়া হয়েছে। তাই হ্যালোইনের দিনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে এই সংখ্যায় গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটাকে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
মুখপাত্রটির অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার মাধ্যমে যুক্তরাজ্য সরকার ট্রাম্প ও ইসরায়েলি অস্ত্র কোম্পানিগুলোকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছে। প্যালেস্টাইন অ্যাকশন এসব কোম্পানির কার্যক্রম ব্যাহত করেছিল; কোনো সন্ত্রাসী হুমকির কারণে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ ও প্রচারণা বিভাগের প্রধান ফেলিক্স জ্যাকেন্সও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড ধরে প্রতিবাদ করার কারণে বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরীদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর লজ্জাজনক আঘাত।
জ্যাকেন্স আরও বলেন, সরকারের উচিত অবিলম্বে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা এবং আইন সংশোধন করা, যাতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রতিবাদ জানানোর ক্ষেত্রে নাগরিকদের অধিকার সংকুচিত না হয়ে বরং আরও সুরক্ষিত হয়।
