শুক্রবার, ২৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ফিরে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক লেবার প্রধানমন্ত্রী স্যার টনি ব্লেয়ার।

তিনি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি তাদের কাঠামোগত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে রাজি হয়, তবে যুক্তরাজ্যের উচিত আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা দেওয়া।

রবিবার লিভারপুলে লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলন শুরু হওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগে টনি ব্লেয়ারের এই বক্তব্য ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ব্লেয়ার জোর দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উচিত ব্রেক্সিট সংক্রান্ত বিদ্যমান ‘রেড লাইন’—যেমন অবাধ চলাচল (ফ্রিডম অব মুভমেন্ট), একক বাজার এবং কাস্টমস ইউনিয়নের ওপর থাকা বিধিনিষেধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা, যাতে একটি ‘আধুনিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক’ গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত হয়।

টনি ব্লেয়ারের থিংক ট্যাংক ‘টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউট’ (টিবিআই)-এর প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্নহ্যামের প্রত্যাশিত ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার অন্যতম ‘মূল ভিত্তি’ হওয়া উচিত পুনরায় ইইউতে যোগদান।

প্রতিবেদনের মুখবন্ধে স্যার টনি লিখেছেন, ‘আমাদের স্পষ্ট হওয়া উচিত যে আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক সম্পর্কে ফিরে যেতে চাই। তবে সেটি হতে হবে এমন এক ইউরোপ যা সংস্কারের সুস্পষ্ট পথে এগোচ্ছে, স্বাধীন জাতিরাষ্ট্রগুলোর এক ইউনিয়ন এবং একটি প্রকৃত বৈশ্বিক পরাশক্তি হয়ে ওঠার সক্ষমতা রাখে।’

তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ জনমত কতটা সায় দেবে তা মেপে মেপে ইউরোপের দিকে ‘ইঞ্চি ইঞ্চি করে এগিয়ে যাওয়ার কোনো মানে নেই’; বরং প্রধানমন্ত্রীর উচিত পুরোপুরি ইইউতে ফিরে যাওয়ার স্পষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করা।

তিনি যুক্তি দেন যে এই আলোচনাকে ইইউর ভেতরে থাকা সংস্কারপন্থিদের জন্য একটি চাপ বা ‘লিভার’ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, যারা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং শক্তিশালী অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ চান।

১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা টনি ব্লেয়ার বলেন, আলোচনার টেবিলে শক্তিশালী অবস্থানের জন্য ব্রিটেনের নিজস্ব অর্থনীতিকে আরও জোরদার করতে হবে, যাতে ইইউ সংস্কারে রাজি না হলে যুক্তরাজ্য ‘স্বাধীন থাকার প্রস্তুতি রয়েছে’ তা প্রমাণ করতে পারে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রযুক্তি, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষার মতো ক্ষেত্রগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে বৃহত্তর সহযোগিতার সুযোগ খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবাধ চলাচলের বিষয়েও যুক্তরাজ্যকে ছাড় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ভবিষ্যতে লেবার পার্টির নির্বাচনী ইশতেহারে ইইউতে ফেরার প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নাকচ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো চলতি বছরের শেষভাগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাজ্য-ইইউ শীর্ষ সম্মেলন এবং ব্লকের সঙ্গে ‘সম্পর্কের সেতুবন্ধন পুনর্নির্মাণ’ করা।

এর আগে গত সপ্তাহে ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেসের বার্ষিক সভায় শ্রমিক নেতারাও একক বাজার ও কাস্টমস ইউনিয়নের ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর ‘রেড লাইন’ ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এদিকে গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আইপিপিআর-এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বরিস জনসনের ব্রেক্সিট চুক্তির পর যুক্তরাজ্য প্রতি বছর ৬৫০ কোটি পাউন্ডের বাণিজ্য হারিয়েছে, যার মধ্যে দেশটির গাড়ি শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২০০১ সালে লেই থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর টনি ব্লেয়ারের অধীনে জুনিয়র মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছিলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। পরবর্তীতে নীতিগত বিষয়ে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা গেলেও, গত বছর গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র থাকাকালীন বার্নহ্যাম নিজেই বলেছিলেন যে তিনি তাঁর জীবদ্দশাতেই যুক্তরাজ্যকে আবারও ইউরোপীয় ইউনিয়নে দেখতে চান। এবার সাবেক দলীয় প্রধানের এই প্রকাশ্য তাগিদ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ওপর নতুন করে কৌশলগত চাপ তৈরি করল।


শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version