মঙ্গলবার, ২৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   |   ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিনন্দনের বার্তা পেতে শুরু করেছেন তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক শুভেচ্ছা বার্তায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন অধ্যায়ে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। বার্তায় স্টারমার উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীভিত্তিক সম্পর্ক রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও গভীর ও ফলপ্রসূ করা সম্ভব।

ডাউনিং স্ট্রিট সূত্রে প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নিরাপত্তা সহযোগিতা, সাইবার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যৌথ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়। ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য বৈশ্বিক বাণিজ্য অংশীদারিত্ব বাড়াতে যে কৌশল নিয়েছে, তার অংশ হিসেবেও দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার আগ্রহের ইঙ্গিত দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিনন্দন বার্তার কূটনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। যুক্তরাজ্যে প্রায় ছয় লাখের বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস, যারা দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। রেমিট্যান্স, শিক্ষা সহযোগিতা, উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ, এবং স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ, এসব ক্ষেত্রেও নতুন করে গতি আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, জলবায়ু ঝুঁকি ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মতো ইস্যুতে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও কয়েকজন নেতা তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম পৃথক বার্তায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এতে স্পষ্ট হয়, নতুন সরকারের প্রতি বৈশ্বিক অংশীদারদের আগ্রহ রয়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা নয়, এই ধরনের বার্তা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের রূপরেখাও নির্ধারণ করে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বর্তমানে কয়েক বিলিয়ন ডলারের, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে যুক্তরাজ্য অন্যতম প্রধান বাজার। নতুন সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর নির্ভর করবে এই সম্পর্ক কত দ্রুত ও কতটা গভীর হবে। একই সঙ্গে মানবাধিকার, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ড, এসব বিষয়ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

সব মিলিয়ে, কিয়ার স্টারমারের অভিনন্দন বার্তা শুধু সৌজন্য নয়; বরং এটি দুই দেশের মধ্যে বহুমাত্রিক সহযোগিতার সম্ভাবনার একটি ইঙ্গিত। নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন বৈশ্বিক পরিসরেও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version