শনিবার, ৭ই মার্চ, ২০২৬   |   ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্পেনের ৫ লক্ষ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ফিনল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারি রানতানেন। গত ৫ মার্চ ইউরোনিউজ-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই পদক্ষেপকে পুরো শেনজেন এলাকার নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে অভিহিত করেন। ফিনল্যান্ডের এই প্রভাবশালী মন্ত্রী মনে করেন, স্পেনের এই ধরনের গণ-বৈধকরণ কর্মসূচি অবৈধ অভিবাসীদের জন্য একটি ‘পুল ফ্যাক্টর’ বা আকর্ষণ হিসেবে কাজ করবে, যা অন্যান্য দেশের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

রানতানেনের মতে, শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কোনো অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ না থাকায় স্পেনে বৈধতা পাওয়া ব্যক্তিরা সহজেই উত্তর ইউরোপের দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, যখন কোনো একটি দেশ এককভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা নষ্ট করে।

তিনি যুক্তি দেন যে, ইউরোপের কোনো একটি দেশে প্রবেশ করে বৈধ হওয়া যায়—এমন বার্তা পৌঁছালে তা অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। তিনি একতরফা সংহতির বদলে শেনজেন এলাকার বহিঃসীমান্ত নিয়ন্ত্রণে অধিক কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।

মাদ্রিদ তাদের এই সাধারণ ক্ষমা বা অ্যামনেস্টির সিদ্ধান্তকে শ্রমবাজারের ঘাটতি মেটানোর একটি বাস্তবমুখী পদক্ষেপ হিসেবে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, ফিনল্যান্ড বর্তমানে তাদের অভিবাসন নীতি অত্যন্ত কঠোর করছে। গত জানুয়ারি মাসেই তারা রেসিডেন্স পারমিটের জন্য ভাষার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি করেছে এবং ডেনমার্কের আদলে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চালু করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পেন ও ফিনল্যান্ডের এই বিপরীতমুখী অবস্থান ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কোম্পানিগুলোকে এখন দুই দেশে ভিন্ন ভিন্ন ডকুমেন্টেশন সময়সীমা এবং কমপ্লায়েন্স চেকের মুখোমুখি হতে হবে। এমনকি অভিবাসন চাপের সময় শেনজেন এলাকার অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সাময়িকভাবে পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে, যা যাতায়াতের সময় বাড়িয়ে দিতে পারে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version