জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে গত এক বছরে পর্তুগালের অর্ধেকেরও বেশি ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। দেশটির ৫৩ শতাংশ ভোক্তা জানিয়েছেন, গত ১২ মাসে তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ডেকো (ডিইসিও), পর্তুগিজ ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি এবং সুপারমার্কেট চেইন মারকাদোনার যৌথ জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলছে। গত এক বছরের পরিস্থিতি নিয়ে অধিকাংশ ভোক্তার অভিজ্ঞতাই নেতিবাচক।
জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আর ৯ শতাংশের মতে, ক্রয়ক্ষমতা সামান্য বেড়েছে।
অন্যদিকে, ৩৮ শতাংশ বলেছেন, তাদের ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা কমেছে এবং ১৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ ছাড়া ৩৪ শতাংশের মতে, গত এক বছরে তাদের ক্রয়ক্ষমতার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
মূল ভূখণ্ড পর্তুগালে বসবাসকারী ২ হাজার প্রাপ্তবয়স্কের ওপর এ জরিপ চালানো হয়।
জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগজীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের দৈনন্দিন কেনাকাটায়ও।
জরিপে দেখা গেছে, ৭৭ শতাংশ ভোক্তা জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আর ৬৮ শতাংশ জানিয়েছেন, এখন তাদের খরচের হিসাব রাখার প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে বেড়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অন্তত কিছুটা হলেও কেনাকাটার অভ্যাস বদলেছেন ৭৮ শতাংশ ভোক্তা।পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্রেতারা এখন কেনাকাটায় আগের চেয়ে বেশি হিসাবি হচ্ছেন। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোক্তা নিয়মিত বিভিন্ন পণ্যের দাম তুলনা করেন, ছাড়ের সুযোগ খোঁজেন এবং সুপারমার্কেটের নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য বেছে নেন।
এ ছাড়া ৮০ শতাংশের বেশি ভোক্তা জানিয়েছেন, কোনো পণ্য কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করেন। মাত্র ১২ শতাংশ বলেছেন, তারা নিয়মিত হুটহাট কেনাকাটা করেন।
জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পরিবারের বাজেট সামলাতে ভোক্তারা ক্রমেই বেশি হিসাবি কৌশল অবলম্বন করছেন।’
এ কারণে খাদ্যপণ্য কেনার ক্ষেত্রে দামের তুলনায় মান ও প্রাপ্ত সুবিধার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ৯০ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা জানিয়েছেন, পণ্য বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অর্থের যথাযথ মূল্য পাওয়া তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
পণ্যের ছাড়ও ক্রেতাদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখছে। ৯০ শতাংশের বেশি ভোক্তা বিশেষ ছাড়কে গুরুত্ব দেন। আর ৭৮ শতাংশ জানিয়েছেন, ছাড়ের সুবিধা নিতে তারা নির্দিষ্ট কোনো দোকানে যেতে রাজি।
কেনাকাটায় সুপারমার্কেটের আধিপত্য
নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কেনার ক্ষেত্রে বড় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ শতাংশ ভোক্তা জানিয়েছেন, তাদের খাদ্যপণ্যের অর্ধেকের বেশি কেনাকাটা হয় সুপারমার্কেট ও হাইপারমার্কেট থেকে। আর ৮৪ শতাংশ অন্তত সপ্তাহে একবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনেন।
সাধারণ পণ্য কেনার ক্ষেত্রেও অনলাইন কেনাকাটার তুলনায় সরাসরি দোকানে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। ৯০ শতাংশের বেশি ভোক্তা জানিয়েছেন, তারা অধিকাংশ কেনাকাটা অনলাইনের পরিবর্তে দোকানে গিয়ে করেন।
তবে অনলাইন ও সরাসরি কেনাকাটার আলাদা সুবিধাও স্বীকার করেছেন ভোক্তারা। ৩৭ শতাংশের মতে, অনলাইনে কেনাকাটার সুবিধা হলো নমনীয় সময়ে অর্ডার দেওয়া। অন্যদিকে, ৩৯ শতাংশ সরাসরি দোকানে কেনাকাটার সুবিধা হিসেবে দ্রুত কেনাকাটা সম্পন্ন করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
কেনাকাটায় আনুগত্যভিত্তিক পুরস্কার কর্মসূচিও জনপ্রিয়। ৮৩ শতাংশ ভোক্তা অন্তত মাঝে মাঝে এসব কর্মসূচির কার্ড বা অ্যাপ ব্যবহার করেন। আর ৮৭ শতাংশ মনে করেন, এ ধরনের কর্মসূচি অন্তত মাঝারি মাত্রায় উপকারী।
আর্থিক চাপের মধ্যেও কিছু ভোক্তার কেনাকাটার সিদ্ধান্তে পরিবেশগত স্থায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ৬০ শতাংশের বেশি ভোক্তা পণ্যের পরিবেশগত স্থায়িত্ব বা নৈতিক উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করেন। আর ২৫ শতাংশ জানিয়েছেন, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পণ্যের জন্য তারা বেশি দাম দিতেও রাজি।


