আগামী ২৯ নভেম্বরের আগাম সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে সেভিলের বহুল পরিচিত ‘লাকি সিটি’ দোস এরমানাসে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। সেখানে তাঁর বক্তব্য শুনতে প্রায় ৫ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।
এই শহরটি বেছে নেওয়া কোনো কাকতালীয় বিষয় ছিল না; কারণ আন্দালুসিয়ার সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নির্বাচনের পর এটিই সেখানকার সবচেয়ে বড় শহর যেখানে সানচেজের সোশ্যালিস্ট পার্টি এখনও ক্ষমতায় টিকে রয়েছে। ২০১৭ সালে স্প্যানিশ সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির (পিএসওই) সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার লড়াই সানচেজ এই শহর থেকেই শুরু করেছিলেন।
এ ছাড়া ২০১৯ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনী প্রচারণাও তিনি শুরু করেছিলেন এই শহরেই, যাকে দলের আন্দালুসিয়া শাখার উপ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলেহান্দ্রো ময়ানো দলের ‘লাকি সিটি’ বা সৌভাগ্যের শহর হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে ভোটারদের মন জয় করা সোশ্যালিস্টদের জন্য এবার অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ২০২২ সালের আন্দালুসীয় নির্বাচন, ২০২৩ সালের স্থানীয় ও সাধারণ নির্বাচন, ২০২৪ সালের ইউরোপীয় ভোট এবং চলতি বছরের শুরুর দিকের আন্দালুসীয় নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে পরাজিত হয়েছে দলটি।
সমাবেশে সানচেজ স্পেনের সাম্প্রতিক আবাসন আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা মারিকারমেন আবাসকালের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ৮৭ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সামাজিক অধিকারের লড়াইটি এখন একজন ৮৭ বছর বয়সী নারীর নাম ধারণ করেছে।’ তিনি ওই নারীর একটি বাক্য পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘আমি যা সহ্য করেছি, আমি চাই না অন্য কেউ সেই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাক।’
রাজনৈতিক বিরোধীদের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীরা টানা আট বছর ধরে কেবল ‘ভয়ের বার্তা’ ছড়িয়েছে। ‘রাখাল ও বাঘের’ গল্পের রূপক টেনে সানচেজ বলেন, ‘তারাই হলো সেই বাঘ।’ তিনি প্রধান বিরোধী দল পিপলস পার্টিকে (পিপি) উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা বিরোধিতায় থাকলে শুধু গালাগালি করে, আর ক্ষমতায় গেলে বরাদ্দ ছাঁটাই করে।
এদিকে শনিবার মাদ্রিদে পাল্টা প্রচার শুরু করেছেন পিপলস পার্টির নেতা আলবার্তো নুনিয়েস ফেইহো। সানচেজকে কড়া আক্রমণ করে ফেইহো বলেন, তিনি কোনো বিতর্কিত ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসেননি; বরং তিনি এসেছেন সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, বাজেট ভারসাম্য রক্ষা এবং সরকারি সেবা সচল রাখার পটভূমি থেকে।
সানচেজের আগাম নির্বাচনের ঘোষণার পর বিদেশে বসবাসকারী ২৭ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৫ জন স্প্যানিশ নাগরিককে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। কথিত ‘গ্র্যান্ডচিলড্রেনস ল’-এর কারণে বিদেশে স্প্যানিশ ভোটারের সংখ্যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১৯ শতাংশ বা ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৫ জন বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৩ সাল থেকে দেশটিতে সামগ্রিক ভোটারের সংখ্যা ১২ লাখ ৬০ হাজার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রায় ১৬ লাখ তরুণ প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার লাভ করেছেন।


