ইউরোপের দেশগুলোতে কর্মচারীদের বার্ষিক গড় বেতনের ক্ষেত্রে এক বিশাল ব্যবধান বা বৈষম্য দেখা গেছে। ওপেক-এর ২০২৬ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সাধারণ টাকার অঙ্কে এবং স্থানীয় বাজারের জিনিসপত্রের দাম বা মানুষের কেনাকাটার ক্ষমতা দুই দিক থেকেই আয়ের ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। এই তালিকায় ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন দেওয়া দেশ হয়েছে সুইজারল্যান্ড এবং সবচেয়ে নিচে রয়েছে তুরস্ক ও স্লোভাকিয়া। তবে দেশগুলোর স্থানীয় বাজারের জীবনযাত্রার খরচ হিসাব করলে এই আয়ের ব্যবধান অনেকটাই কমে আসে।
প্রতিবেদনে ইউরোপের মোট ২৭টি দেশের পূর্ণকালীন কর্মীদের বার্ষিক গড় বেতন হিসাব করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ইউরোপের একমাত্র দেশ হিসেবে সুইজারল্যান্ডে বছরে গড় বেতন ১ লক্ষ ইউরো ছাড়িয়ে গেছে। তালিকার ওপরের দিকে থাকা অন্য দেশগুলো হলো আইসল্যান্ড, লাক্সেমবার্গ, ডেনমার্ক এবং নেদারল্যান্ডস। ইউরোপের বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের কর্মীরা বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৬ হাজার ইউরো আয় করেন, যা স্পেনের মতো দেশের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম বেতন পান স্লোভাকিয়ার কর্মীরা। হাঙ্গেরি, পর্তুগাল এবং পোল্যান্ডের মতো দেশগুলোতেও বার্ষিক গড় আয় অনেক কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের উৎপাদনশীলতা, শক্তিশালী শ্রমিক ইউনিয়ন এবং স্থানীয় বাজারের জীবনযাত্রার খরচের ওপর নির্ভর করে এই বেতনের পার্থক্য তৈরি হয়। তবে মজার বিষয় হলো, যখন সাধারণ টাকার অঙ্কের বদলে স্থানীয় বাজারের জিনিসপত্রের দাম এবং মানুষের কেনাকাটার ক্ষমতা বা ক্রয়ক্ষমতা (PPP) হিসাব করা হয়, তখন দেশগুলোর আয়ের এই বড় ব্যবধান অনেকটাই কমে আসে। ক্রয়ক্ষমতার এই হিসাবেও সুইজারল্যান্ড শীর্ষে থাকলেও জার্মানি ৫ ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। আর সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে তুরস্ক; সাধারণ বেতনের দিক থেকে তারা একদম নিচে থাকলেও জিনিসপত্র কেনার ক্ষমতার দিক থেকে এক লাফে ৯ ধাপ ওপরে উঠে এসেছে। অপরদিকে, অতিরিক্ত জীবনযাত্রার খরচের কারণে আইসল্যান্ড দ্বিতীয় স্থান থেকে নিচে নেমে গেছে।
তথ্যসূত্র: ইউরো নিউজ


