ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
হোয়াইট হলের সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
আইসিজের ওই রায়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারত্বকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বসতি স্থাপনের বিরোধিতা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অন্যান্য দেশগুলোর প্রতিও আহ্বান জানানো হয়।
প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের ব্রিটিশ বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ফ্রান্সেসকা আলবানিজ সোমবার বলেন, কোনো দেশই ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের মতো পরিস্থিতিকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে না। এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বন্ধ করাও দেশগুলোর দায়িত্ব।
আলবানিজ বলেন, অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতিতে একটি ‘প্রকৃত পরিবর্তনের’ অংশ হওয়া উচিত। এর মূল লক্ষ্য হওয়া দরকার ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আইসিজের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়ন।
এদিকে লেবার মুসলিম নেটওয়ার্ক (এলএমএন) ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অব জাস্টিস ফর প্যালেস্টিনিয়ানস (আইসিজেপি) গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ বাণিজ্য ও আর্থিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠন দুটি বলেছে, কোনো ব্রিটিশ নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর অর্থনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। বসতিগুলোর অর্থনীতিকে সহায়তা করে এমন কার্যক্রমও বন্ধ করা প্রয়োজন।
ইসরায়েলের পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি
যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে এরই মধ্যে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে তারাও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
সম্প্রতি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন ই-১ বসতি স্থাপন প্রকল্প নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অধিকৃত পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড গাজা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সেখানে যা ঘটছে তা ‘ভয়াবহ’। যুক্তরাজ্য সরকারকে আগের চেয়ে আরও জোরালোভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপও বাড়ছে
এদিকে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সঙ্গেও লন্ডনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু বিতর্কিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে মন্তব্য করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, দ্বীপপুঞ্জের ওপর যুক্তরাজ্যের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার জিবি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালালে তিনি যুক্তরাজ্যকে সমর্থন করবেন না। যুক্তরাজ্যের সমালোচনা করে তিনি ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের সময় দেশটির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
মিলিব্যান্ডের সমালোচনা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের
এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ডের বক্তব্যের সমালোচনা করেছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে মিলিব্যান্ডকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে, ‘রাজনৈতিক দর্শকদের জন্য ভিডিও বানানোর সময় সত্যের দাম কমই থাকে।’
ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ওই পোস্ট শেয়ার করে যুক্তরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তোলেন।
উল্লেখ্য, এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড নিজেও ইহুদি। তাঁর মা ও বাবা হলোকাস্টে পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন।


