পর্তুগালের অভিবাসন সংস্থা ‘আইমা’ (AIMA) দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা গোল্ডেন ভিসা বা বিনিয়োগকারী অভিবাসনের আবেদনগুলোর জট কাটাতে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে। সংস্থার ৪৬ হাজার পেন্ডিং বা বকেয়া আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৩০ হাজার আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার বা বায়োমেট্রিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ৬ হাজার আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে পার্লামেন্টে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্সি বিষয়ক মন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাও আমারো।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গোল্ডেন ভিসা প্রক্রিয়াকরণে গড় অপেক্ষার সময় রেকর্ড ৫০.৪ মাসে দাঁড়িয়েছে। তবে আইমার নতুন এই ত্বরান্বিত পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। এর আগে অনিয়মিত অভিবাসীদের ৪ লাখ ৪৫ হাজার বকেয়া আবেদনের জট সফলভাবে কাটিয়ে ওঠায় আইমা এখন গোল্ডেন ভিসা এবং পরিবার পুনরেকত্রীকরণের মতো দীর্ঘসূত্রতার মুখে থাকা খাতগুলোতে বাড়তি মনোযোগ দিতে পারছে।
আইমা জানায়, পুরোনো পেপারওয়ার্ক বা কাগজের ফাইলগুলো ধীরগতিতে এগোলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চালু হওয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতির আবেদনগুলো এখন তুলনামূলক দ্রুত গতিতে নিষ্পত্তি হচ্ছে। আইনজীবীরা বলছেন, আবেদন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে প্রথম রেসিডেন্স কার্ড বা বসবাসের অনুমতিপত্র হাতে পেতে নতুন আবেদনকারীদের বর্তমানে ১৪ থেকে ১৮ মাসের মতো সময় লাগতে পারে। তবে পুরনো জট পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত পরিসংখ্যানগত গড় সময় আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে রিন্যুয়াল বা নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে চলে যাওয়ায় এবং আবেদনকারীরা অনলাইনে অগ্রগতি দেখতে পারায় কাজের স্বচ্ছতা অনেক বেড়েছে। যদিও আইমার কার্যক্রমে এখনো কিছু দীর্ঘসূত্রতা রয়ে গেছে, তবুও সংশ্লিষ্টরা বলছেন যে বর্তমান পরিস্থিতি বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি উৎসাহব্যঞ্জক।


