ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের হার শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ২০২৪ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) কর্মসংস্থানের হার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। ২০০৫ সাল থেকে সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে ইইউর আটটি দেশেও কর্মসংস্থানের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর কয়েক মাস পর, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইইউতে বেকারত্বের হার ২০০০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।
ইউরোপে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থানের হার যেসব দেশে
১. আইসল্যান্ড: ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ
শক্তিশালী শ্রমবাজার, তুলনামূলক কম বেকারত্ব এবং নারী ও বয়স্কদের শ্রমবাজারে উচ্চ অংশগ্রহণ আইসল্যান্ডের কর্মসংস্থানের হার বেশি থাকার অন্যতম কারণ।
২. নেদারল্যান্ডস: ৮২ দশমিক ৩ শতাংশ
২০০৫ সালের পর থেকে ইইউর দেশগুলোর মধ্যে নেদারল্যান্ডসই প্রথম ৮০ শতাংশের বেশি কর্মসংস্থানের হার অর্জন করে। দেশটির নমনীয় শ্রমবাজার এবং বিশেষ করে নারীদের মধ্যে খণ্ডকালীন কাজের ব্যাপক প্রচলন এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।
৩. সুইজারল্যান্ড: ৮০ দশমিক ৪ শতাংশ
দক্ষ কর্মীর প্রাপ্যতা, কম বেকারত্ব এবং উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি সুইজারল্যান্ডের শ্রমবাজারকে শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করছে।
৪. জার্মানি: ৭৭ দশমিক ৬ শতাংশ
স্থিতিশীল অর্থনীতি, শক্তিশালী শিল্পভিত্তি, কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষাব্যবস্থা এবং রপ্তানিনির্ভর শিল্প জার্মানির কর্মসংস্থান ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
৫. নরওয়ে: ৭৭ শতাংশ
শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা, শ্রমবাজারে মানুষের উচ্চ অংশগ্রহণ এবং জ্বালানি খাত নরওয়ের কর্মসংস্থানের হার বেশি থাকার পেছনে ভূমিকা রাখছে।
৬. ডেনমার্ক: ৭৬ দশমিক ৯ শতাংশ
নমনীয় শ্রমবাজার, কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ এবং শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা ডেনমার্কের উচ্চ কর্মসংস্থানের অন্যতম ভিত্তি।
৭. সুইডেন: ৭৬ দশমিক ২ শতাংশ
নারী-পুরুষের সমতা, শিক্ষা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব এবং তরুণ ও বয়স্কদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ সুইডেনের কর্মসংস্থানের হার বাড়াতে সহায়তা করছে।
৮. চেক প্রজাতন্ত্র: ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ
উৎপাদন খাতের শক্তিশালী অবস্থান এবং ইউরোপের সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত শিল্পাঞ্চলগুলোতে কম বেকারত্ব চেক প্রজাতন্ত্রের উচ্চ কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখছে।
৯. হাঙ্গেরি: ৭৫ দশমিক ১ শতাংশ
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শ্রমবাজারের সংস্কার এবং শিল্প খাতে বিদেশি বিনিয়োগ হাঙ্গেরিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
১০. এস্তোনিয়া: ৭৫ দশমিক ১ শতাংশ
ডিজিটালনির্ভর অর্থনীতি, প্রযুক্তি খাতের বিকাশ এবং উদ্ভাবন এস্তোনিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করছে।


