বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬   |   ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বাংলাদেশে গত কয়েক দিনে অন্তত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এতে ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজারো মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে। খবর বিবিসির৷
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজার জেলায় এখন পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলাটিতে বিশ্বের বৃহত্তম রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। গত সপ্তাহে কক্সবাজারে বন্যার পানির স্রোতে একটি বিদ্যালয় তলিয়ে গেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নিহত হন।
রাজধানী ঢাকাতেও টানা বৃষ্টিতে বহু সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে অতীতের ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় সরকার বন্যা ও ভূমিধসের সতর্কতা জারি করে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয় এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা স্থগিত করে। বর্তমানে হাজারো মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা সারদার উদয় রায়হান জানান, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হতে পারে। তবে মৌসুমি বৃষ্টিপাত উত্তর-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলে অব্যাহত থাকায় সেখানে আরও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নভূমি ও নদীবহুল বাংলাদেশে বর্ষাকালে বন্যা স্বাভাবিক হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারী বৃষ্টিপাতের তীব্রতা ও ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version