বুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   |   ২৯ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস। তিনি বলেছেন, সামগ্রিকভাবে দেশের বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ ইতিবাচক এবং এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

মঙ্গলবার ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক।

সংবাদ সম্মেলনে ইভার্স ইজাবস বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন গণতন্ত্র, রাজনৈতিক ক্ষমতার জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন, এই অভিন্ন নীতিমালার ভিত্তিতে বাংলাদেশে তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি জানান, ইইউ একটি নিরপেক্ষ ও পেশাদার পর্যবেক্ষক দল হিসেবে কাজ করছে এবং তাদের লক্ষ্য হলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার সার্বিক চিত্র আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মূল্যায়ন করা।

দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মিশনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। কিছু কিছু এলাকা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে আমাদের ধারণা। তিনি আরও জানান, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ইভার্স ইজাবস বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যৌক্তিক বিষয়। তিনি বলেন, একটি নির্বাচনকে প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণমূলক করতে হলে সব শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, নারী ভোটার, নারী প্রার্থী এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়টি ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের বিশেষ নজরে থাকবে।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, ইইউর দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। তারা প্রার্থী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এসব পর্যবেক্ষণ ও আলোচনার ভিত্তিতে সামগ্রিকভাবে নির্বাচনী পরিবেশকে ইতিবাচক বলেই মনে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইভার্স ইজাবস বলেন, অনেকেই এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি নতুন সূচনাবিন্দু হিসেবে দেখছেন।

প্রাক-নির্বাচনী প্রচারণা, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তিনি জানান, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। সেখানে নির্বাচনী পরিবেশ, প্রচারণা, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রাথমিক মূল্যায়ন তুলে ধরা হবে। নির্বাচন শেষে প্রায় দুই মাস পর প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত বিশ্লেষণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলেও জানান তিনি।

ইভার্স ইজাবস বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং বিশ্বের সব গণতন্ত্রের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই ক্ষেত্রেও পর্যবেক্ষণ মিশন তথ্য সংগ্রহ করছে, যা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজ করা আমাদের পর্যবেক্ষকরা ইউরোপের চোখ ও কান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি নিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক ও বিশ্বাসযোগ্য মূল্যায়ন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে একটি ভালো, অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য ও সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন দেখতে আগ্রহী।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version