বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬   |   ২৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত যখন ধীরে ধীরে বৈশ্বিক পরিসরে নিজের অবস্থান শক্ত করছে, ঠিক তখনই এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছালেন মোস্তাফা রফিকুল ইসলাম ডিউক। দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, নেতৃত্ব ও বাস্তবমুখী ব্যাংকিং সমাধান তৈরির স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সম্মানিত হয়েছেন যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ পার্লামেন্টে, যা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের আইটি খাতের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন।

লন্ডনের ঐতিহাসিক হাউস অব কমন্স (ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ)-এ আয়োজিত এক মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, প্রযুক্তি ও শিক্ষা জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল মোস্তাফা ইসলাম ডিউকের নেতৃত্বে তৈরি ‘ফ্লোরাব্যাংক কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার’। এই সফটওয়্যারকে আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ড বিশ্বের অন্যতম উদ্ভাবনী ও কার্যকর কোর ব্যাংকিং সিস্টেম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ফ্লোরাব্যাংক মূলত, রিয়েল-টাইম ট্রানজ্যাকশন প্রসেসিং, উচ্চমাত্রার সাইবার নিরাপত্তা, হক-কেন্দ্রিক ডিজিটাল সেবা এবং স্কেলেবল ও কাস্টমাইজড ব্যাংকিং আর্কিটেকচার নিশ্চিত করে, যা উন্নয়নশীল ও উন্নত, উভয় অর্থনীতির ব্যাংকগুলোর জন্য সমানভাবে কার্যকর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফটওয়্যার ভবিষ্যতের ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব লর্ডস (ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ)-এর সদস্য ব্যারোনেস মানজিলা উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে মোস্তাফা ইসলাম ডিউকের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিকাশে মোস্তাফা ডিউকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার কাজের গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ।

একই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটি মোস্তাফা ইসলাম ডিউককে প্রদান করে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি। বিশ্বব্যাপী ফিনটেক কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার এবং বাস্তবভিত্তিক প্রযুক্তি গবেষণায় তার অবদানকে এই ডিগ্রির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সম্মাননা গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করে মোস্তাফা ইসলাম ডিউক বলেন, এই স্বীকৃতি আমার একার নয়। আমার পরিবার, সহকর্মী, মেন্টর এবং বিশ্বজুড়ে থাকা শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত অবদানেই এটি সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই সম্মান আমাকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেবে।

যুক্তরাজ্য সফরের অংশ হিসেবে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের থ্যাচার বিজনেস এডুকেশন সেন্টার-এ‘উদ্ভাবনের ভবিষ্যৎ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিংয়ের সমন্বয়’ শীর্ষক একটি কী-নোট প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এই প্রবন্ধে তিনি ব্যাখ্যা করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং ব্যবহারের মাধ্যমে ভবিষ্যতের ব্যাংকিং ব্যবস্থা কীভাবে আরও নিরাপদ, দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব হতে পারে। আন্তর্জাতিক গবেষক ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞদের মতে, তার এই বিশ্লেষণ ভবিষ্যৎ ফিনটেক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সম্মাননা এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট, এই দুই অর্জন একসঙ্গে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি মাইলফলক। এটি প্রমাণ করে, বাংলাদেশ শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারকারী নয়, বরং প্রযুক্তি উদ্ভাবনকারী দেশ হিসেবেও বিশ্বে জায়গা করে নিচ্ছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version