শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬   |   ২২শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ পাঁচ দশক পর আর্টেমিস-২ অভিযানের মাধ্যমে চারজন নভোচারী বর্তমানে চাঁদের পথে রয়েছেন। এই রোমাঞ্চকর অভিযানের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক ‘অ্যাপোলো-১৩’ মিশনের সেই ভয়াবহ বিপর্যয়। তথ্যসূত্র অনুযায়ী (হিস্ট্রি ডটকম), মহাকাশযাত্রায় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে নভোচারীরা কীভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন, সেই পুরনো প্রশ্নটিই এখন নতুন প্রযুক্তির যুগে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

১৯৭০ সালের ১৩ এপ্রিল পৃথিবী থেকে প্রায় দুই লাখ মাইল দূরে মহাকাশযানের অক্সিজেন ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণে এক চরম সংকটে পড়েন নভোচারী জিম লাভেল, ফ্রেড হেইস এবং জ্যাক সুইগার্ট। মহাকাশযানের বিদ্যুৎ ও জীবনধারণ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে কমান্ডার লাভেল সেই বিখ্যাত বার্তা পাঠান ‘হিউস্টন, উই হ্যাভ হ্যাড এ প্রবলেম।’ নাসার গ্রাউন্ড টিম তখন ‘ফ্রি-রিটার্ন ট্র্যাজেক্টরি’ পদ্ধতি ব্যবহার করে চাঁদের মহাকর্ষ শক্তিকে গুলতির মতো কাজে লাগিয়ে নভোচারীদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনে। ছোট লুনার মডিউলকে ‘লাইফবোট’ হিসেবে ব্যবহার করে সেই জীবনমরণ লড়াই মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য নজির হয়ে আছে।

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর আর্টেমিস-২ মিশনও একই ফ্রি-রিটার্ন ট্র্যাজেক্টরি অনুসরণ করছে। তবে এবারের প্রযুক্তি অনেক বেশি আধুনিক এবং নিরাপদ। নাসা জানিয়েছে, এই মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় আড়াই লাখ মাইল দূরে পৌঁছাতে পারেন, যা অ্যাপোলো-১৩-এর গড়া মানুষের সর্বোচ্চ দূরত্বের রেকর্ডকেও (২ লাখ ৪৮ হাজার মাইল) ছাড়িয়ে যাবে। ইতিহাস আর আধুনিক প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন আর্টেমিস-২ মিশনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version