বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্রিসে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে আগামী ৩১শে ডিসেম্বর থেকে শিক্ষা কার্যক্রমের রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে নেওয়া ব্যাপক পরিকল্পনার এটি দ্বিতীয় ধাপ। গ্রিসের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যারা বছরের পর বছর, এমনকি কয়েক দশক ধরে ভর্তি হয়েও নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তাদের ডিগ্রি সম্পন্ন করার জন্য দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি ‘দ্বিতীয় সুযোগ’ দিয়েছিল।

গ্রিসে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের তাদের ডিগ্রির নির্ধারিত মেয়াদের চেয়েও অতিরিক্ত বহু বছর পর্যন্ত নাম নিবন্ধিত রাখার সুযোগ দিয়ে আসছিল। মূলত সাম্য এবং উন্মুক্ত শিক্ষার আদর্শের ওপর ভিত্তি করে এই নীতি চালু করা হলেও, ধীরে ধীরে এটি গভীর কাঠামোগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে প্রকাশ পায়।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল, অধ্যাপকদের ধর্মঘট, ক্যাম্পাসে ভাঙচুর এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে, অনেক দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষার্থী তাদের ‘ছাত্র’ পরিচয় ব্যবহার করে জনপরিবহনে অর্ধেক ভাড়া, সিনেমা ও থিয়েটারে বিশেষ ছাড় এবং বিনামূল্যে ডরমিটরি ব্যবহারের মতো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে আসছিলেন।

তথাকথিত এই ‘চিরস্থায়ী শিক্ষার্থী’র সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার। তবে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীকে পড়াশোনায় ফিরে আসার বা পুনরায় যুক্ত হয়ে ডিগ্রি সম্পন্ন করার জন্য এই ‘দ্বিতীয় সুযোগ’ দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষার্থীদের এই সমস্যা এবং তাদের নাম বাদ দেওয়ার সময়সীমা নিয়ে এথেন্স-ম্যাসেডোনিয়ান নিউজ এজেন্সির সঙ্গে কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী সোফিয়া জাখারাকি। তিনি বলেছেন, এমন সংবেদনশীল ইস্যুতে যেকোনো পরিবর্তন উদ্বেগ সৃষ্টি করে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, সরকার কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা শিক্ষার্থীদের ‘ছাঁটাই’ করার কথা বলছে না। একটি আধুনিক, ন্যায্য এবং কার্যকরী কাঠামোর কথা বলা হচ্ছে, যা সুযোগ না কেড়ে নিয়েই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করবে।

শিক্ষামন্ত্রীর মতে, কয়েক দশক ধরে নিষ্ক্রিয় শিক্ষার্থীদের এই ব্যবস্থা সবার জন্যই অন্যায্য ছিল। বিশেষ করে ঐ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য যারা সঠিক পরিকল্পনা করতে পারছিল না, এবং সেই সব সক্রিয় শিক্ষার্থীদের জন্য যারা কঠোর সংগ্রাম করছে।

জাখারাকি উল্লেখ করেন যে, গ্রিসের দীর্ঘমেয়াদী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য এই আইনি পদক্ষেপ ছিল ‘অপরিহার্য’। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই নতুন কাঠামোটি মোটেই ‘কঠোর’ নয়। তিনি বলেন, এতে চাকরিজীবী, অসুস্থ বা গুরুতর পারিবারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে এমন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড় ও নমনীয়তার বিধান রাখা হয়েছে। সরকার সবাইকে একইভাবে বিচার করছে না, বরং সবার প্রতি ন্যায়বিচার করছে, বলেন শিক্ষামন্ত্রী সোফিয়া জাখারাকি।

তবে এই পদক্ষেপের বিরোধীরা সতর্ক করেছেন যে, কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ করলে অনেক অসহায় শিক্ষার্থী বাদ পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে। একজন অধ্যাপকের মতে, সহায়তা ছাড়া শুধুমাত্র শৃঙ্খলা কোনো সংস্কার হতে পারে না; এটি আসলে শিক্ষার্থীদের ত্যাগ করার শামিল।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version