নেদারল্যান্ডসে চলমান রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে মায়ের স্মৃতিতে আবেগপ্রবণ হয়ে উঠেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। উৎসবের মর্যাদাপূর্ণ বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশন বিভাগে প্রতিযোগিতা করছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত সিনেমা ‘মাস্টার’। ছবিটির প্রিমিয়ার উপলক্ষে সিনেমার টিম বর্তমানে রটারড্যামে অবস্থান করছে।
এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের ফাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রটারড্যাম থেকে একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করে নস্টালজিক একটি পোস্ট দিয়েছেন মম। পোস্টে বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে নিজের মা, প্রয়াত প্রফেসর আয়েশা আকতারকে গভীরভাবে মিস করার কথা তুলে ধরেন তিনি। মম লেখেন,
‘প্রফেসর আয়েশা আকতার, আম্মা, যার স্বপ্নের পথ হাঁটছি আমি…। অনেকবার পরীক্ষা হলে প্রশ্ন কমন পড়ত না, তখন শুধু মনে হতো আম্মার বকা। ইশ্! বকা শুনে আর একটু মন দিয়ে পড়লেই কমন পড়ে যেত সব। তখন খুব কান্না পেত।’
এই স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে একজন মায়ের শাসন, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণার গল্প, যা আজকের মমকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ছোটবেলা থেকেই নাচ ও অভিনয়ের মাধ্যমে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে বহুবার বিদেশে গেলেও এবারের যাত্রাটি তার কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। মম লিখেছেন,
‘কিন্তু ছোটবেলা থেকে দেশকে নিয়ে অনেকবার বিদেশ গিয়েছি, নাচে-অভিনয়ে… এবার “মাস্টার” সিনেমা নিয়ে রটারড্যাম উৎসবের বিগ স্ক্রিন প্রতিযোগিতা বিভাগে।’
পোস্টের শেষাংশে আরও আবেগঘন হয়ে ওঠেন এই অভিনেত্রী। তিনি লেখেন,
‘সত্যি এমনই যে নিজের পাশে কম মানুষকে পায়। আর আমার নিজের সময়ে মনে পড়ে আম্মাকে, নিজের দেশকে।’
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেওয়া শিল্পীদের ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ কেবল আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং তা দেশের সংস্কৃতি ও শিল্পযাত্রার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
উল্লেখ্য, ‘মাস্টার’ সিনেমার চিত্রনাট্যে পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া এক শিক্ষক জাহির–এর উত্থানের গল্প। সমাজ, ক্ষমতা ও নৈতিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্র ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সিনেমাটিতে জাকিয়া বারী মম ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসিরউদ্দিন খান ও আজমেরী হক বাঁধন। রটারড্যাম উৎসবের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে ‘মাস্টার’-এর প্রতিযোগিতায় থাকা এবং বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড অর্জন, বাংলাদেশি সিনেমার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
