ইউটিউবের কল্যাণে ব্রিটিশ সিটকম ‘মাইন্ড ইউর ল্যাঙ্গুয়েজ’ আজও বহু দর্শকের কাছে পরিচিত। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, পাকিস্তানি আলি নাদিম নামের চরিত্রটি যিনি রূপায়ন করেছিলেন তিনি আসলে একজন বাংলাদেশি অভিনেতা। তাঁর নাম দিনো শফিক।
১৯৩০ সালের ২১ মার্চ ঢাকায় গোলাম ডি. শফিক নামে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী পরবর্তীতে দিনো শফিক নামেই পরিচিতি পান। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে ব্রিটিশ টেলিভিশনের পর্দায় তিনি ছিলেন এক জনপ্রিয় মুখ।
১৯৫৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তিনি। অল্প সময়ের মধ্যেই কমেডি অভিনয়ে দক্ষতা ও স্বতঃস্ফূর্ত রসবোধ দিয়ে ব্রিটিশ দর্শকদের মন জয় করেন। বিশেষ করে বিবিসির সিটকম ‘ইট এইন্ট হাফ হট মাম’-এ ‘চাইওয়ালা মুহাম্মদ’ এবং আইটিভির ‘মাইন্ড ইউর ল্যাঙ্গুয়েজ’-এ ‘আলি নাদিম’ চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন তিনি।
‘ইট এইন্ট হাফ হট মাম’ সিরিজে তাঁর ‘চাইওয়ালা মুহাম্মদ’ চরিত্রটি ছিল ব্রিটিশ সেনাদের জন্য চা বিক্রি করা এক ভারতীয় চা-ওয়ালার। সহজ-সরল রসবোধে ভরা এই চরিত্রটি দর্শকদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ‘মাইন্ড ইউর ল্যাঙ্গুয়েজ’-এর ‘আলি নাদিম’ চরিত্রে তিনি একজন পাকিস্তানি অভিবাসীর ভূমিকায় অভিনয় করেন, যিনি ইংরেজি শেখার চেষ্টা করছেন। এটি তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে সফল চরিত্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
দিনো শফিক কেবল একজন অভিনেতাই ছিলেন না, বরং দুই সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধনও গড়ে তুলেছিলেন। একজন বাংলাদেশি হিসেবে ব্রিটিশ বিনোদন জগতে নিজ প্রতিভার পরিচয় দিয়ে তিনি দেশবাসীকে গর্বিত করেছিলেন। তাঁর অভিনয় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে দর্শকদের অনুপ্রাণিত করেছে।
১৯৮৪ সালের ১০ মার্চ মাত্র ৫৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন দিনো শফিক। তাঁর অকাল প্রয়াণ ব্রিটিশ ও বাংলাদেশি অভিনয় জগতের জন্য ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি। আজও তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো দর্শকদের মনে অমলিন হয়ে আছে। অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
