মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন থেকে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে গত জানুয়ারিতে এক আত্মঘাতী প্রস্তুতির ছক এঁকেছিল ডেনমার্ক। ডেনিশ সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ডিআর এবং ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এলিট বাহিনী গ্রিনল্যান্ডে অবতরণ করতে চাইলে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের রানওয়েগুলো ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিশেষ সেনাদল মোতায়েন করেছিল কোপেনহেগেন। এমনকি সম্ভাব্য যুদ্ধে হতাহতদের চিকিৎসার জন্য জরুরি রক্তও সরবরাহ করে রাখা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর ডেনমার্ক এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেয়। ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে একে ‘কৌশলগতভাবে প্রয়োজনীয়’ এবং সেখানে ‘রুশ ও চীনা জাহাজের আনাগোনা’ রয়েছে বলে দাবি করেন। ডেনিশ নিরাপত্তা সূত্রের মতে, ভেনিজুয়েলার ঘটনার পর ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলেও একই ধরনের ‘বিদ্যুৎগতি অভিযান’ চালাতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে তারা ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে এবং সুইডেনের সাথে মিলে গোপন সামরিক পরিকল্পনা সাজায়।
তথাকথিত এক যৌথ সামরিক মহড়ার আড়ালে ডেনমার্ক ও ফ্রান্সের এলিট কমান্ডোদের একটি দল গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক এবং কাঙ্গারলুসসাক বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এই দলকে ‘স্থল, আকাশ এবং সমুদ্র সম্পদ’ দিয়ে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ডেনিশ প্রতিরক্ষা সূত্রের মতে, যদিও মার্কিন সামরিক শক্তির সামনে তাদের টিকে থাকা অসম্ভব ছিল, তবুও তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে ‘গ্রিনল্যান্ড পেতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে’। মার্কিন যুদ্ধবিমান অবতরণ রুখতে তারা রানওয়ে ধ্বংস করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিল।
২১ জানুয়ারি দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্প জানান যে, তিনি শক্তি প্রয়োগ করতে চান না, তবে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চান। এরপর থেকেই তিনি উত্তেজনা প্রশমনে ‘তাৎক্ষণিক আলোচনা’র পথ খুঁজছেন বলে জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মিত্রদের মধ্যে এই গভীর বিভেদ ও সামরিক মুখোমুখি অবস্থান আধুনিক কূটনীতিতে এক বিরল ও উদ্বেগজনক ঘটনা।
