উন্নত ও গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে সুইজারল্যান্ডই প্রথম তাদের সামগ্রিক জনসংখ্যার জন্য একটি নির্দিষ্ট সংখ্যাসূচক সীমা বা ‘Absolute Numerical Cap’ নির্ধারণের কথা ভাবছে। দেশটির বিচারমন্ত্রী বিট জানস এই উদ্যোগকে একটি “রেডিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট” বা আমূল পরীক্ষা হিসেবে অভিহিত করেছেন। সাধারণত বিশ্বের দেশগুলো জন্ম নিয়ন্ত্রণ বা বার্ষিক অভিবাসন কোটার মাধ্যমে জনসংখ্যা সীমিত করার চেষ্টা করলেও, সরাসরি ‘মোট জনসংখ্যা’ নির্দিষ্ট করে দেওয়ার এমন নজির আধুনিক ইতিহাসে নেই।
সাধারণত চীন বা সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো ভিন্ন পদ্ধতিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে। চীন যেখানে বিতর্কিত ‘এক সন্তান নীতি’ বা জন্ম নিয়ন্ত্রণের পথে হেঁটেছে, সেখানে সুইজারল্যান্ডের প্রস্তাবটি ভিন্ন। এটি সরাসরি একটি ফলাফল বা ‘আউটপুট’ (১০ মিলিয়ন জনসংখ্যা) নির্ধারণ করে দিচ্ছে এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে অভিবাসন বা ‘ইনপুট’ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। অস্ট্রেলিয়া বা ভুটানের মতো দেশগুলোতে টেকসই জনসংখ্যার আলোচনা থাকলেও তারা কখনোই সংবিধানে কোনো নির্দিষ্ট জনসংখ্যার সীমা লিখে দেয়নি।
সুইস পিপলস পার্টির এই প্রস্তাবের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সাথে দেশটির বিদ্যমান ‘মুক্ত চলাচল’ চুক্তি। যদি সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ৯.৫ মিলিয়নে পৌঁছে যায়, তবে এই চুক্তি বাতিল করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ১ শতাংশ, যা ইউরোপের অন্যতম সর্বোচ্চ। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০-এর দশকের শুরুতেই জনসংখ্যা ৯.৫ মিলিয়নে পৌঁছে যাবে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
জনসংখ্যাবিদদের মতে, সুইজারল্যান্ডের এই উদ্যোগটি একটি “আইনি সিলিং” হিসেবে অনন্য। অধিকাংশ দেশ তাদের শ্রমবাজার বা অর্থনৈতিক প্রয়োজনে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, কিন্তু সরাসরি “মোট জনসংখ্যা” স্থির রাখার জন্য এমন কড়াকড়ি আগে দেখা যায়নি। যদি এই উদ্যোগ সফল হয়, তবে তা বৈশ্বিক রাজনীতি ও জনমিতি ব্যবস্থাপনায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। তবে জন্মহার বৃদ্ধি পেলে অভিবাসন আরও কমিয়ে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে, তা নিয়ে এখনও গভীর বিতর্ক চলছে।
তথ্যসূত্র: সুইস ইনফো
