কানাডার পথ ধরে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলোও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘সহযোগী সদস্য’ হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটসোলা। সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যম ইউরোনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেটসোলা প্রস্তাবিত এই সহযোগী সদস্যপদকে পূর্ণ সদস্যপদ ও প্রার্থী বা ক্যান্ডিডেট স্ট্যাটাসের মাঝামাঝি একটি ‘তৃতীয় পথ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণের ঠিক আগে মেটসোলা বলেন, ‘এমন কিছু দেশ রয়েছে যাদের সাথে আমরা আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাই। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে এর মধ্যে অন্যান্য দেশও অন্তর্ভুক্ত হবে এবং আরও অনেকে আমাদের দরজায় কড়া নাড়বে… অনিশ্চয়তার এই সময়ে সত্যিকারের বন্ধু থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড উভয়ের সঙ্গেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্যকর বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে, যা ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার একটি প্রাথমিক ভিত্তি হতে পারে। ২০১৬ সালে কানাডার সঙ্গেও অনুরূপ একটি বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ইইউ।
সহযোগী সদস্যপদের রূপরেখা ঠিক কেমন হবে জানতে চাইলে মেটসোলা স্বীকার করেন যে এ বিষয়ে আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে তিনি গভীর বাণিজ্য সম্পর্ক, গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল প্রাপ্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষার মতো বিষয়ে অভিন্ন বিধিমালার ওপর জোর দেন। এর আগে গত বুধবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন তাঁর বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে কানাডাকে প্রথম সহযোগী সদস্যপদ দেওয়ার ঐতিহাসিক প্রস্তাব করেছিলেন।
বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের জেরে তীব্র শুল্কের মুখে পড়ে ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক খুঁজছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অব্যাহত চাপের মুখে অটোয়া বিশ্বে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান নতুন করে মূল্যায়ন করছে এবং কার্নি বিশ্বের ‘মধ্যম শক্তির’ দেশগুলোর একটি বৃহত্তর জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে এই ঘোষণার পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, সহযোগী সদস্যপদের এই প্রক্রিয়া যদি ওয়াশিংটনের প্রতি ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রূপ নেয়, তবে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর নতুন করে পাল্টা শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ইইউভুক্ত পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক বহাল রয়েছে।
ট্রাম্পের এই হুমকিকে খুব একটা পাত্তা না দিয়ে মেটসোলা বলেন, ইইউ উভয় দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে থাকে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইইউ কারো বিরুদ্ধে কাজ করে না, বরং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নেয়।
ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্রও পৃথকভাবে বলেছেন, ‘আমাদের অংশীদারত্ব বাড়ানোর এই প্রস্তাব কারো বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি আমাদের সম্মিলিত শক্তির জন্য।’ কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
