শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে আগামী অক্টোবর থেকে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে পর্তুগাল সরকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশব্যাপী ১ লাখ কর্মীকে এআই প্রশিক্ষণের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী কাস্ত্রো আলমেইদা।

পার্লামেন্টের অর্থনীতি ও আঞ্চলিক সংহতি বিষয়ক কমিটির শুনানিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি একটি অত্যন্ত ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’। প্রাথমিক চ্যালেঞ্জগুলো কোম্পানিগুলোকে নিজেদেরই মোকাবিলা করতে হবে, তবে সরকার এআই ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার মতো মৌলিক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে থাকতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, বড় বড় কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে তাদের কর্মীদের জন্য বড় পরিসরে এআই প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে পর্তুগালের অর্থনৈতিক বাস্তবতা হলো—এখানে বেশিরভাগই অত্যন্ত ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান, যেখানে কোম্পানিপ্রতি গড়ে মাত্র তিনজন কর্মী কাজ করেন। এই সংখ্যা অত্যন্ত কম হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে নিজ উদ্যোগে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় এআই যুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

মন্ত্রী জানান, আগামী অক্টোবর মাসে লেইরিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন কোম্পানির প্রায় ১০০ জন কর্মীকে নিয়ে প্রথম এআই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এই পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে দেশজুড়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ কর্মী যদি এআইয়ের সঙ্গে পরিচিত হন এবং নিজেদের প্রতিষ্ঠানে তা ব্যবহারের যোগ্যতা অর্জন করেন, তবে তা আমাদের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী অগ্রগতি বয়ে আনবে।’

এছাড়া মারিনহা গ্রান্দে এলাকায় ছাঁচ তৈরির (মোল্ড মেকিং) খাতের ৫ বা ৬টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে আরেকটি পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করা হবে, যাতে নির্দিষ্ট শিল্প পরিচালনায় এআই কীভাবে উৎপাদন প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে পারে তা যাচাই করা যায়। মন্ত্রী বলেন, ‘এই দুটি পাইলট উদ্যোগের ফলাফল দেখে আমরা জাতীয় পর্যায়ে এর বিস্তার ঘটাব। দেশের মিনহো থেকে শুরু করে আলগারভে পর্যন্ত সর্বত্র এই এআই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

কাস্ত্রো আলমেইদা জানান, শত শত মাঝারি ও বড় কোম্পানি ইতিমধ্যে ‘ইনোভেশন অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস ফিনান্সিয়াল ইনস্ট্রুমেন্ট’ (IFIC)-এর মাধ্যমে সরকারি অর্থায়ন পাচ্ছে, যার একটি বড় অংশ প্রতিষ্ঠানগুলোতে এআই প্রযুক্তি যুক্ত করার জন্য বরাদ্দ রয়েছে।

তিনি জানান, কোম্পানিগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালুর জন্য সরকার এ পর্যন্ত ৪০ কোটি (৪০০ মিলিয়ন) ইউরোর বেশি তহবিল বরাদ্দ করেছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version