রবিবার, ২২শে মার্চ, ২০২৬   |   ৯ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত বা ইতিপূর্বে অংশ নেওয়া সকল রুশ সেনা এবং ভাড়াটে যোদ্ধাদের  ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশে আজীবন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিশাল। ব্রাসেলসে ১৯-২০ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ইউরোপীয় কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। এস্তোনিয়া চায়, এই সব ব্যক্তিদের জন্য শেঞ্জেন এলাকার দরজা চিরতরে বন্ধ করে দিতে।

প্রধানমন্ত্রী মিশাল তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু হওয়ার সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সেনা ও ভাড়াটে যোদ্ধার সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি এক গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “ইউরোপের সবাই কল্পনা করতে পারে এখন যদি যুদ্ধ শেষ হয় তবে কী ঘটবে। এর অর্থ হলো—যাদের অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এবং মানুষ হত্যার অভিজ্ঞতা আছে, সেই সব যোদ্ধারা ইউরোপের রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে বা ছুটিতে আসবে। আমরা তা কোনোভাবেই চাই না।” তিনি মনে করেন, এই যোদ্ধারা ইউরোপের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী হুমকি।

এস্তোনিয়ার এই প্রস্তাবে রুশ যোদ্ধাদের জন্য ইউরোপে প্রবেশ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে, যাতে তারা কোনোভাবেই ইউরোপীয় ভূখণ্ডে পা রাখতে না পারে। উল্লেখ্য যে, এস্তোনিয়া ইতিমধ্যে নিজস্ব উদ্যোগে এক হাজারেরও বেশি রুশ সেনার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। এখন তারা চায় পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্মিলিতভাবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। আসন্ন অধিবেশনে এই প্রস্তাবটি নিয়ে ইইউ নেতাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইউক্রেনকে সহায়তা এবং রাশিয়ার ওপর চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version