ইরান যুদ্ধ এবং হরমোজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি সংকটের জেরে বিমান চলাচল ব্যবস্থা টালমাটাল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর বার্তা দিয়েছে। ইইউ ট্রান্সপোর্ট কমিশনার স্পষ্ট জানিয়েছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য বা সংকটকে ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি’ হিসেবে গণ্য করে পার পাওয়া যাবে না; ফ্লাইট বাতিল করলে এয়ারলাইন্সগুলোকে অবশ্যই নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বা রিফান্ড দিতে হবে। তবে ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে কিছুটা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে।
জ্বালানির এই ভয়াবহ সংকটে জার্মানির লুপথানসা এবং আয়ারল্যান্ডের অ্যার লিঙ্গাস ইতিমধ্যে অনেক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। তবে ইউরোপের বৃহত্তম এয়ারলাইন্স রায়ানএয়ার জানিয়েছে, তারা এই গ্রীষ্মে কোনো ফ্লাইট বাতিল করবে না, কারণ তারা আগেভাগেই কম দামে ২০২৭ সাল পর্যন্ত জ্বালানি চুক্তিবদ্ধ করে রেখেছে। এয়ারএশিয়ার প্রধান নির্বাহী টনি ফার্নান্দেস বর্তমান পরিস্থিতিকে করোনা মহামারির চেয়েও ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমোজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্থবির হয়ে পড়লেও, এয়ারএশিয়া ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ১৯ বিলিয়ন ডলারের নতুন বিমান কেনার চুক্তি করেছে, যা উত্তর আয়ারল্যান্ডে দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
