চীন থেকে অতিরিক্ত আমদানি ঠেকাতে রাসায়নিক, আসবাবপত্র ও ভারী যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে নজিরবিহীন বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পদক্ষেপের আওতায় আমদানি কোটা নির্ধারণ কিংবা অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকের মধ্যেই এ বিষয়ে নীতিগত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় কমিশন সম্প্রতি চীনা গাড়ি আমদানি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া উদ্যোগের আদলে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করতে চায়। বেইজিংয়ের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে চীন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বছরে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন লাখ হাইব্রিড গাড়ি আমদানির সীমা নির্ধারণ করেছে ব্রাসেলস। এমনভাবে এই কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে চীনের পাল্টা বাণিজ্যিক পদক্ষেপের ঝুঁকি এড়ানো যায়।
চীনের সঙ্গে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমানোই ইইউর নতুন উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গত বছর চীনের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড ৩৬০ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছায়।
তবে এ পদক্ষেপ নিতে গিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। একদিকে ইউরোপের শিল্প খাতকে সুরক্ষা দেওয়া ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানো, অন্যদিকে বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়ানো—দুই দিক সামলাতে হচ্ছে সংস্থাটিকে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ব্লুমবার্গের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্ররা।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইউরোপের শিল্প খাতগুলো অন্যায্য প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। কমিশন তাদের কথা শুনেছে এবং এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবে। এর মধ্যে আরও কিছু সুরক্ষামূলক বাণিজ্য বিধিনিষেধও থাকতে পারে।
ইইউর বাণিজ্য আইন অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট খাতে আমদানির অস্বাভাবিক প্রবাহ দেখা দিলে সদস্য দেশগুলো নিজেদের বাজার সুরক্ষায় সেফগার্ড বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।
এর আগে এক বিশেষ প্রতিবেদনে ব্লুমবার্গ জানিয়েছিল, চীন থেকে আমদানির কারণে ইউরোপের কোন কোন শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, তা শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ শুরু করেছে ইইউ।
