মঙ্গলবার, ২৭ই অক্টোবর, ২০২৬   |   ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবৈধ অভিবাসীদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আরও ক্ষমতা পেতে যাচ্ছে ইউরোপের সীমান্তরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্স। এর ফলে ইইউর সীমানার বাইরেও অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে সংস্থাটির ভূমিকা আরও বাড়বে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইউরোনিউজ।

ইউরোপীয় কমিশন মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাব প্রকাশ করবে। নতুন নিয়মে ইইউর ভূখণ্ডের বাইরেও ফ্রন্টেক্সের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা বাড়ানো হবে। তবে এ উদ্যোগ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে ফ্রন্টেক্স ইইউর সদস্যদেশগুলোকে অনিয়মিত অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি সংস্থাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় টহল দেয়।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর সরকারকে তাদের ভূখণ্ডে থাকা মধ্য আফ্রিকার নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতেও সহায়তা করতে পারবে ফ্রন্টেক্স। অর্থাৎ এসব অভিবাসী ইউরোপের উপকূলে পৌঁছানোর আগেই তাঁদের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

ইউরোনিউজকে এক ইইউ কর্মকর্তা বলেন, ‘তাঁরা ইউরোপে পৌঁছানোর আগে যত বেশি মানুষকে ফেরত পাঠানো যাবে, পৌঁছানোর পর তত কম মানুষকে ফেরত পাঠাতে হবে।’

নতুন সংস্কারের আওতায় তৃতীয় দেশগুলোতে স্থাপিত ‘রিটার্ন হাব’ থেকেও অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে ফ্রন্টেক্স। সম্প্রতি অনুমোদিত একটি আইনের আওতায় ইইউর সদস্যদেশগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে এসব কেন্দ্র স্থাপন করতে পারবে। বর্তমানে পাঁচটি ইইউ সরকার প্রথম এমন একটি কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করছে। ২০২৭ সালে কেন্দ্রটি চালু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইইউতে আশ্রয়ের আবেদন কিংবা থাকার অনুমতি প্রত্যাখ্যাত হওয়া যেসব অভিবাসী এসব কেন্দ্রে থাকবেন, শেষ পর্যন্ত তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ফ্রন্টেক্সের অংশগ্রহণ তাঁদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে পারে।

আমস্টারডামভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সন্যাশনাল ইনস্টিটিউটের গবেষক জোসেফিন সোলাঙ্কি বলেন, ফ্রন্টেক্স এখন আর শুধু ইইউর সীমান্তে সদস্যদেশগুলোকে সহায়তা দেওয়া সংস্থা নয়। বরং এটি ক্রমেই এমন একটি বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থায় পরিণত হচ্ছে, যার কার্যক্রম ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রকৃত সীমান্ত থেকে অনেক দূরেও বিস্তৃত হচ্ছে।

তবে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সংগঠন ফ্রন্টেক্সের ক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে আরও শক্তিশালী তদারকি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, অভিবাসীদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত না থাকলে নতুন ক্ষমতার অপব্যবহার হতে পারে। ইউরোপের ভেতরে সংস্থাটির বিভিন্ন কার্যক্রমেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে বলে তারা উল্লেখ করেছে।

তৃতীয় কোনো দেশে ফ্রন্টেক্সের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট চুক্তি করতে হবে। আলবেনিয়া, সার্বিয়া ও উত্তর মেসিডোনিয়ার মতো কয়েকটি ইইউ-বহির্ভূত দেশের সঙ্গে সংস্থাটির আগে থেকেই এ ধরনের ‘স্ট্যাটাস চুক্তি’ রয়েছে।

এসব চুক্তির আওতায় অংশীদার দেশগুলোর ভূখণ্ডে যৌথ অভিযান ও জরুরি সীমান্ত ব্যবস্থাপনাসহ নির্দিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ফ্রন্টেক্সের কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা যায়।

এদিকে সেনেগালের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে ইইউ। ২০২৩ সালে সেনেগাল, মৌরিতানিয়া ও গাম্বিয়ার দায়িত্বও অন্তর্ভুক্ত করে একজন ফ্রন্টেক্স লিয়াজোঁ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে সে সময় নিয়োগটি আনুষ্ঠানিক স্ট্যাটাস চুক্তির পরিবর্তে অনানুষ্ঠানিক ‘ওয়ার্কিং অ্যারেঞ্জমেন্টস’-এর আওতায় হয়েছিল।

সংস্কার প্রস্তাবে অনিয়মিত অভিবাসীদের আকস্মিকভাবে বড় সংখ্যায় প্রবেশের পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত মোতায়েনযোগ্য একটি বাহিনী গঠনের কথাও রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণের জন্য একটি অনলাইন নজরদারি ইউনিট গঠন করা হবে, যার লক্ষ্য বড় আকারের অভিবাসী চলাচল প্রতিরোধ করা।

গত জুলাইয়ে মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিটমহল সেউতায় প্রায় ৯০ হাজার অভিবাসীর প্রবেশের ঘটনাকে এ ধরনের পরিস্থিতির উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার ইউরোপীয় কমিশনের সাপ্তাহিক বৈঠকের পর কমিশনের নিরাপত্তাবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনা ভিরকুনেন এবং স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার সংস্কার প্রস্তাবটি উপস্থাপন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে ইইউর পরবর্তী সাত বছরের বাজেটে ফ্রন্টেক্সের জন্য ১২ বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। আগের বরাদ্দের তুলনায় এই অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version