বৃহস্পতিবার, ৫ই মার্চ, ২০২৬   |   ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে আকস্মিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের কৃষি পণ্য রপ্তানি খাতে। বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশি সবজির যে ক্রমবর্ধমান বাজার তৈরি হয়েছিল, তা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। আকাশপথ বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের ফলে গত শনিবার থেকে ইউরোপগামী সবজি রপ্তানি প্রায় ৯০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি ও কানাডার মতো দেশগুলোতে বাংলাদেশি কাঁচা মরিচ, লাউ, করলা ও পটলসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গত অর্থবছরে শুধুমাত্র যুক্তরাজ্যেই ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের সবজি রপ্তানি হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কাতার এয়ারওয়েজ ও এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় ইউরোপের এই বিশাল বাজার এখন স্থবির।

রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, সরাসরি ফ্লাইটের অভাব এবং আকাশপথের নিরাপত্তাহীনতার কারণে ইউরোপের খুচরা বাজারগুলোতে বাংলাদেশি পণ্যের সরবরাহ বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

স্মরণিকা ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মাসুদুর রহমান জানান, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে প্রতি সপ্তাহে তারা ১০-১২ টন সবজি পাঠান। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ইউরোপের বাজারে আমাদের যে শক্ত অবস্থান ছিল, তা হাতছাড়া হয়ে যাবে। বাজারে দীর্ঘ সময় গ্যাপ থাকলে অন্য দেশগুলো সেই জায়গা দখল করে নেবে।”

সবজি রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনসুর বলেন, “গ্রীষ্মকালীন সবজির ভরা মৌসুম সামনে। এমন সময় আকাশপথ বন্ধ হওয়া আমাদের ব্যবসার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ভৌগোলিক সুবিধার কারণে দ্রুত পণ্য পৌঁছাতে পারলেও আমরা পিছিয়ে পড়ছি।”

ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে মোট ১০২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সোমবার এক দিনেই বাতিল হয়েছে ৩৯টি ফ্লাইট। বিশেষ করে ট্রানজিট পয়েন্টগুলো বন্ধ থাকায় ইউরোপগামী কার্গো পরিবহন প্রায় বন্ধের তালিকায় চলে এসেছে।এর ফলে ইউরোপেও সবজি সংকট দেখা দিতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version