এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রসেন জেলিয়াজকভের সরকার পদত্যাগ করলো। ১১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার তিনি এমন ঘোষণা দিলেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তীব্র হয়ে ওঠা দুর্নীতিবিরোধী অব্যাহত বিক্ষোভের চাপই কি জেলিয়াজকভ সরকারকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করলো?
দুর্নীতিবিরোধী বেশ কয়েকটি বিক্ষোভের পর জেলিয়াজকভ ঘোষণাটি দিয়েছেন বিরোধী দলের আনা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর পার্লামেন্টে ভোটের ঠিক আগে। গত মাসের শেষের দিক থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভগুলোর মধ্যে এই পদক্ষেপটি ছিল সবচেয়ে নতুন। এর অংশ হিসেবে ১০ ডিসেম্বর বুধবার হাজার হাজার মানুষ, সরকার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বুলগেরিয়াজুড়ে পথে নেমে আসে।
গত সপ্তাহে বুলগেরিয়ার রাষ্ট্রপতি রুমেন রাদেভ বিক্ষোভকারীদের প্রতি তার সমর্থন ঘোষণা করেন। তাড়াতাড়ি নির্বাচনের পথ তৈরি করতে সরকারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বয়েকো বরিসভের সরকারের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের পর দেশটিতে সাতটি আগাম নির্বাচন হয়েছে।
এএফপির একজন সাংবাদিক জানান…
বুধবার শুধুমাত্র রাজধানী সোফিয়ার পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়েছিল। বিক্ষোভকারীরা “পদত্যাগ করো” বলে স্লোগান দেয় এবং রাজনীতিবিদদের ব্যঙ্গচিত্র সম্বলিত “আমি ক্লান্ত!” লেখা প্ল্যাকার্ড তুলে ধরে।
২০২৬ সালের একটি খসড়া বাজেট ওই বিক্ষোভের জন্ম দেয়। বিক্ষোভকারীরা খসড়াটিকে ব্যাপকভাবে দুর্নীতি আড়াল করার তৎপরতা বলে অভিহিত করেছিল। সরকার গত সপ্তাহে বাজেটটি প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। তবু জনগণের বিক্ষোভ চলতে থাকে।
শাসক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর জেলিয়াজকভ সাংবাদিকদের জানান সরকার পদত্যাগ করছে। তিনি আরও বলেন…
সব বয়স, জাতিগত পটভূমি, এবং ধর্মের মানুষ পদত্যাগের পক্ষে কথা বলেছে। সেই কারণেই ওই নাগরিক শক্তিকে সমর্থন ও উৎসাহিত করতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হিসেবে পরিচিত বুলগেরিয়া আগামী ১ জানুয়ারি ইউরোজোনে যোগ দিতে চলেছে। সরকার পদত্যাগ করার পরও প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশটির ইউরো গ্রহণের প্রস্তুতির সময় দাম নিয়ে উদ্বেগের কারণে বুলগেরিয়ার প্রতিষ্ঠান ও নেতাদের প্রতি আস্থা আরও কমেছে।
মার্কেট লিঙ্কস সমাজতাত্ত্বিক সংস্থার পরিচালক দোব্রোমির জেলিয়াজকভ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বুলগেরীয় সমাজ দেশের শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যাপক ঐক্যবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন…
বুলগেরিয়ার সরকার ও পার্লামেন্টের প্রতি আস্থা ঐতিহাসিকভাবেই কম রয়েছে। এটি দেশটির তীব্র রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের আরও একটি সূচক।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে সর্বনিম্ন র্যাঙ্কিং-এ থাকা দেশগুলোর মধ্যে বুলগেরিয়া অন্যতম।
