রবিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ২৩শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

 ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ডেনমার্কই বর্তমানে সবচেয়ে কঠোর অভিবাসন নীতি অনুসরণ করছে। কোপেনহেগেন থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে গভীর বনাঞ্চলের মাঝে অবস্থিত ‘আভনস্ট্রুপ’  বহিষ্কার কেন্দ্রটি এখন প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য এক জীবন্ত দুঃস্বপ্ন।

 ১৯৪০ সালে নির্মিত একটি স্যানিটোরিয়ামকে বর্তমানে রেড ক্রসের তত্ত্বাবধানে নির্বাসন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মার্চের শেষ নাগাদ এখানে ১৮৫ জন অবস্থান করছেন, যাদের অপরাধ তাদের ডেনমার্কে বসবাসের অধিকার নেই। কর্তৃপক্ষের সাথে সহযোগিতা না করলে বা নিজ উদ্যোগে দেশ না ছাড়লে আশ্রয়প্রার্থীদের এই কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে তাদের জীবন কাটে এক অনিশ্চিত বন্দিদশায়।

আভনস্ট্রুপের জীবনযাত্রা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত। এখানকার বাসিন্দারা দিনে দুইবার হাজিরা দিতে বাধ্য এবং তারা কোনো কাজ করার বা অর্থ রাখার অনুমতি পান না। ৫৪ বছর বয়সী কিউবান নাগরিক আন্না, যিনি ১৫ বছর ধরে ডেনমার্কের আশ্রয় ব্যবস্থার গোলকধাঁধায় আটকে আছেন, তিনি এই কেন্দ্রের অমানবিক বাস্তবতার এক করুণ প্রতিচ্ছবি। কিউবা তাকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা যাচ্ছে না, আবার তার পরিবার ডেনমার্কে বৈধ থাকলেও তাকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না।   

ড্যানিশ রিফিউজি কাউন্সিলের মতে, এখানকার পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে কঠিন করে তোলা হয় যাতে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে নিজেরাই দেশ ছেড়ে চলে যায়। রেড ক্রস কর্মকর্তাদের মতে, বছরে কয়েকবার খুব ভোরে পুলিশ এসে জোরপূর্বক মানুষদের ধরে নিয়ে যায়, যা কেন্দ্রের ভেতরে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version