শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬   |   ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের অত্যন্ত বিরল এবং মারাত্মক ‘বুন্দিবুগিও স্ট্রেন’-এ আক্রান্ত একজন প্রখ্যাত মার্কিন মিশনারি চিকিৎসককে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য জার্মানির বার্লিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। ড. পিটার স্ট্যাফোর্ড নামের ওই চিকিৎসককে একটি বিশেষ বিমানে করে বার্লিনের বিইআর বিমানবন্দরে নামানোর পর কঠোর নিরাপত্তায়, পুলিশের বিশাল কনভয়সহ বার্লিনের শারিটে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে অত্যন্ত সুরক্ষিত ও বিশেষায়িত একটি আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

ড. পিটার স্ট্যাফোর্ড এবং তার স্ত্রী ড. রেবেকা স্ট্যাফোর্ড হলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়াভিত্তিক খ্রিস্টান মানবিক সহায়তা সংস্থা ‘সার্জ’ (Serge)-এর চিকিৎসা মিশনারি। এই দম্পতি ২০১৯ সাল থেকে কঙ্গোতে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। কঙ্গোর বুনিয়া শহরের কাছে অবস্থিত ‘নিয়ানকুন্দে হাসপাতালে’ ইবোলা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার সময় ড. পিটার নিজেই এই ভাইরাসে সংক্রমিত হন। তাঁর সাথে তাঁর পরিবারের সদস্যসহ আরও ৬ জন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে একই বিমানে বার্লিনে আনা হয়েছে এবং তাদের ওপর কঠোর কোয়ারেন্টাইন ও কড়া নজরদারি জারি রাখা হয়েছে।

ড. পিটারের চিকিৎসার জন্য বার্লিনের শারিটে হাসপাতালকে বেছে নেওয়ার কারণ হলো, এখানে জার্মানির অন্যতম বৃহত্তম এবং সেরা উচ্চ-স্তরের বিশেষায়িত আইসোলেশন ইউনিট রয়েছে। এই ইউনিটটি হাসপাতালের সাধারণ কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং বিচ্ছিন্ন। এতে রয়েছে নিজস্ব আলাদা যাতায়াত রুট, এয়ারলক সিস্টেম, ডেডিকেটেড বায়ু ফিল্টারিং ও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা এবং নিজস্ব বর্জ্য পানি শোধন ব্যবস্থা, যাতে এই মারাত্মক ভাইরাস কোনোভাবেই হাসপাতালের বাইরে ছড়াতে না পারে।

কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া এই ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ভয়াবহতার কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইতিমধ্যেই “আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা” (PHEIC) ঘোষণা করেছে। কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে কমপক্ষে ৮০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৫১৩ জন এবং সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা ১৩১ জন ছাড়িয়েছে। ইবোলা মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থ (যেমন রক্ত, লালা ইত্যাদি) এবং সরাসরি শারীরিক স্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। এর আগে ২০১৪-১৫ সালে ইবোলার ‘জাইরে ভ্যারিয়েন্ট’-এর কারণে পশ্চিম আফ্রিকায় ১১,০০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা নতুন করে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক তৈরি করছে।

তথ্যসূত্র: ইউরো নিউস 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version