শুক্রবার, ২৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেকর্ড সৃষ্টিকারী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অস্বাভাবিক উষ্ণতা বাড়ছে। এর ফলে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জলবায়ুবিজ্ঞানীরা। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিও সায়েন্টিস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের এক গবেষণায় এই আশঙ্কা উঠে এসেছে। অতীতে বিভিন্ন অঞ্চলে চরম তাপমাত্রার সঙ্গে মৃত্যুহারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এই পূর্বাভাস দিয়েছেন।

গবেষণা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ তাপজনিত কারণে মারা যেতে পারেন। এর সঙ্গে গত জুনে বর্তমান এল নিনো শুরু হওয়ার পর ইতিমধ্যে ঘটে যাওয়া সম্ভাব্য মৃত্যুগুলো যোগ করলে মোট সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছাতে পারে।

রোডিয়াম গ্রুপের গবেষক এমিলি গ্রোভার-কোপেক বলেন, এই পূর্বাভাসের উদ্দেশ্য আতঙ্ক ছড়ানো নয়। বরং আগেভাগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এর লক্ষ্য। ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের খোঁজ নিতে স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা এবং ফ্যান বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের সুবিধা নিশ্চিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

আগামী ছয় মাসে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে তাপজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকবে। কারণ, এ সময়ে সেখানে বসন্ত ও গ্রীষ্মকাল। তবে এল নিনো উত্তর গোলার্ধের বসন্তকাল পর্যন্ত স্থায়ী হলে ফেব্রুয়ারির পর ওই অঞ্চলেও তাপজনিত মৃত্যুর আরও একটি ঢেউ দেখা দিতে পারে। ভারত ও পাকিস্তান বিশেষভাবে ঝুঁকিতে থাকতে পারে বলে জানান গ্রোভার-কোপেক।

আফ্রিকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শুধু নাইজেরিয়াতেই আগামী ছয় মাসে অতিরিক্ত ৩০ হাজারের বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৯ হাজার, ভারতে ১৬ হাজার এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

গবেষকদের মতে, বয়স্ক মানুষই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন। এরপর ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে শিশু ও অন্যান্য বয়সী মানুষ।

ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির গবেষক ক্রিস্টোফার ক্যালাহান এই পূর্বাভাসকে বাস্তবসম্মত বলে মনে করেন। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, গবেষণায় শুধু তাপজনিত মৃত্যুর হিসাব করা হয়েছে। এল নিনোর প্রভাবে দাবানল, সংক্রামক রোগ ও বন্যার মতো অন্যান্য দুর্যোগ বাড়লে মোট মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

গবেষকদের মতে, এই পূর্বাভাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্দিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা নয়। বরং আগাম প্রস্তুতি ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে কতটা প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব, সেটিই মূল বিষয়।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version