শুক্রবার, ২৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদমর্যাদা ও বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আগামী ৬ অক্টোবর দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন পর্তুগালের অভিবাসন সংস্থা ‘আইমা’র কর্মীরা। কর্মীদের সংগঠন ‘মাইগ্রেশন টেকনিশিয়ানস ইউনিয়ন’ (এসটিএম) এই সর্বাত্মক কর্মবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।


পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘এক্সপ্রেসো’ জানিয়েছে, আইমার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পেদ্রো পর্তুগাল গাস্পারের আকস্মিক পদত্যাগের পর সরকারের কাছে একটি জরুরি বৈঠকের আবেদন করেছিল ইউনিয়নটি। তবে সরকারের তরফ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধর্মঘটের নোটিশ পাঠিয়ে দেয় তারা। উল্লেখ্য, সভাপতি পেদ্রো পর্তুগাল গাস্পারের বিদায়ের খবরটি চলতি সপ্তাহেই প্রথম জানা যায়, অথচ গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সরকারি নথিতেও তাঁকে আইমার সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।


আন্দোলনরত কর্মীদের প্রধান দাবি হলো—অভিবাসন খাতে কর্মরতদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘টেকনিক্যাল ক্যারিয়ার কাঠামো’ তৈরি করতে হবে, যা আইমায় তাঁদের বিশেষায়িত ও স্থায়ী কাজের পেশাগত মূল্যায়ন করবে। এছাড়া সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় অংশ নেওয়া পুলিশ বাহিনী পিএসপি এবং জিএনআর-এর কর্মীদের মতো আইমার কর্মীদের কাজের দায়িত্ব, জটিলতা ও ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে উপযুক্ত বেতন সুবিধা বা ভাতা প্রদানের দাবি জানিয়েছে ইউনিয়নটি।


নথি যাচাই, জালিয়াতি শনাক্তকরণ, ডেটাবেস পর্যালোচনা, অভিবাসন ঝুঁকি বিশ্লেষণ, ফাইল নিষ্পত্তি এবং জাতীয় ও ইউরোপীয় আইন প্রয়োগের মতো জটিল প্রশাসনিক কাজগুলোর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চায় এসটিএম।


ইউনিয়নের সভাপতি ম্যানুয়েলা নিজা বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। এখানে মূল বিষয় হলো আইমার কর্মীদের পেশাগত স্বীকৃতি এবং তাঁদের দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা।’


ইউনিয়নটি অবিলম্বে সরকারের সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার এবং কর্মীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতির তাগিদ দিয়েছে।


ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবরের এই কর্মবিরতি হবে দেশব্যাপী এবং কর্মসংস্থানের চুক্তি বা পদমর্যাদা নির্বিশেষে আইমায় দায়িত্ব পালনকারী সব কর্মীর ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে। শুরু থেকেই নানা সমস্যায় জর্জরিত এবং বর্তমানে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় থাকা এই অভিবাসন সংস্থার ওপর ধর্মঘটের এই ঘোষণা নতুন করে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করল।


সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটি আইমা কর্মীদের দ্বিতীয় ধর্মঘট। এর বাইরে আগামী ২ অক্টোবর সরকারি খাতের অন্যান্য ইউনিয়নগুলোর ডাকেও একটি পৃথক সাধারণ ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version