ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া অভূতপূর্ব গতি পেলেও চরম সক্ষমতার সংকটে পড়েছে ব্রাসেলস। একসঙ্গে একাধিক দেশের সদস্যপদ দেওয়ার আলোচনা সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ইউরোপীয় কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। পর্যাপ্ত কর্মকর্তা ও অভিজ্ঞ লোকবলের অভাবে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্রের মতে, ইউরোপীয় কমিশনের সম্প্রসারণ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী বিষয়ক অধিদপ্তর (ডিজি ইনেস্ট) মারাত্মক লোকবল সংকটে ভুগছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই চাপের মূল কারণ ইইউ-এর সম্প্রসারণ উদ্যোগের বড় সফলতা। গত দশ বছরে যতগুলো আলোচনার অধ্যায় শেষ হয়নি, গত ছয় মাসেই তার চেয়ে বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে সদস্য হওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে মন্টেনিগ্রো। ২০২৮ সালের মধ্যে ইইউ-এর ২৮তম সদস্য হওয়ার লক্ষ্যে দেশটির জন্য চূড়ান্ত চুক্তির (অ্যাকসেসন ট্রিটি) খসড়া তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে আলবেনিয়াও দ্রুত এগোচ্ছে। মন্টেনিগ্রোর কাজ ত্বরান্বিত করতে কমিশন একটি বিশেষ ‘টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে। এর ফলে অন্যান্য দেশগুলোর দায়িত্বে থাকা দক্ষ কর্মকর্তাদের এখান থেকে সরিয়ে আনতে হচ্ছে।
২০১৩ সালে ক্রোয়েশিয়া ইইউ-তে যোগ দেওয়ার পর আর কোনো দেশ নতুন করে যুক্ত না হওয়ায়, দীর্ঘ দিন ধরে সদস্যপদ চূড়ান্ত করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন স্থায়ী কর্মকর্তা অনেক কমে গেছে। বেশিরভাগ স্থায়ী পদের বদলে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ওপর নির্ভর করায় ঘনঘন কর্মী পরিবর্তন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই সংকটের মধ্যেই আইসল্যান্ড ইইউ-তে যোগদানের আলোচনা নতুন করে শুরু করতে আগামী ২৯ আগস্ট গণভোটের ডাক দিয়েছে। তারা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিলে কমিশনের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে যাবে। অন্যদিকে ইউক্রেন ও মলদোভাও দ্রুত সদস্যপদের আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা সামলাতে প্রার্থী দেশ দুটি নিজেরাও সক্ষমতার শেষসীমায় পৌঁছে গেছে।
কমিশন তাদের কাজ দ্রুত শেষ করতে চাইলেও হাঙ্গেরির মতো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক বাধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে নিজেদের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ধরে রাখতে ব্রাসেলস প্রয়োজনীয় লোকবল ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ কীভাবে সমন্বয় করবে—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন।
তথ্যসূত্র: ইউরো নিউজ
