ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কৃষি ভর্তুকি নিয়ে এক ভয়াবহ জালিয়াতির কবলে পড়ে চরম সংকটে পড়েছে গ্রিসের মিতসোতাকিস সরকার। ক্ষমতাসীন ‘নিউ ডেমোক্রেসি’ পার্টির ১১ জন সংসদ সদস্য এবং ২ জন সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ইইউ কৃষি তহবিল থেকে লক্ষ লক্ষ ইউরো পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ইউরোপিয়ান প্রসিকিউটর অফিস এই জালিয়াতির মামলাটি সরাসরি গ্রিক সংসদে পাঠালে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়।
তদন্তে দেখা গেছে, গ্রিক পেমেন্ট এজেন্সি ‘ওপেকেপ’ এর মাধ্যমে অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও সংগঠিত উপায়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই কেলেঙ্কারি ফাঁসের পর বিরোধী দলগুলোর সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস এখন তাঁর মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন।
প্রধান বিরোধী দল পিএএসওকে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এখন নিজের তৈরি ‘ফাঁদে’ আটকা পড়েছেন। অভিযুক্ত দুই মন্ত্রী, দুই উপমন্ত্রী এবং দলীয় সেক্রেটারিকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, বামপন্থী দল সিরিজা অভিযুক্ত এমপিদের সংসদীয় অনাক্রম্যতা দ্রুত প্রত্যাহার করে স্বচ্ছ বিচার বিভাগীয় তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। তারা এই ঘটনাকে ‘অবক্ষয় ও দুর্নীতির চরম সীমা’ হিসেবে অভিহিত করে সরকারের ‘ধামাচাপা দেওয়ার’ সংস্কৃতির অবসান চেয়েছে। নিউ লেফট পার্টিও প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করে প্রশ্ন তুলেছে যে, ইউরোপীয় প্রসিকিউটরের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সত্ত্বেও তিনি কেন তাঁর মন্ত্রীদের ফৌজদারি দায়বদ্ধতা অস্বীকার করছেন। সব মিলিয়ে, দুর্নীতির এই কালো মেঘে গ্রিসের বর্তমান সরকারের স্থিতিশীলতা এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে।
