সোমবার, ২৭ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভিবাসী আটক কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ এক আইনি অভিমত দিয়েছেন ইইউ আদালতের শীর্ষ আইন উপদেষ্টা নিকোলাস এমিলিও। তিনি জানিয়েছেন, ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো চাইলে ব্লকের বাইরের কোনো দেশে অভিবাসীদের জন্য কেন্দ্র স্থাপন করতে পারে, তবে শর্ত হলো সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মানবাধিকার এবং ইইউ আইনের সব শর্ত পূর্ণাঙ্গভাবে নিশ্চিত করতে হবে। যদিও এই মতামত আইনিভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনির আলবেনিয়া-ভিত্তিক অভিবাসী নীতি নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ে এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অ্যাডভোকেট জেনারেল নিকোলাস এমিলিও উল্লেখ করেছেন যে, আলবেনিয়া ইতালির নিকটবর্তী এবং একটি ইইউ সদস্য পদপ্রার্থী দেশ হওয়ায় সেখানে এই প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, কোনো ইইউ-বহির্ভূত অশান্ত বা দূরবর্তী দেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর নাও হতে পারে। তার মতে, ইইউ আইন কোনো রাষ্ট্রকে তার নিজস্ব অঞ্চলের বাইরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য কেন্দ্র স্থাপনে বাধা দেয় না, তবে ওই রাষ্ট্রকে অবশ্যই অভিবাসীদের আইনি পরামর্শ, ভাষা সহায়তা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের মতো সব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি এই মতামতকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একে তাঁর সরকারের নীতির ‘বৈধতা নিশ্চিতকরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইতালির ডানপন্থী সরকার ২০২৪ সালের অক্টোবরে আলবেনিয়ায় দুটি অভিবাসী কেন্দ্র খোলে, যার লক্ষ্য ছিল উত্তর আফ্রিকা থেকে ইতালিতে পৌঁছানো বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর চাপ কমানো। যদিও কেন্দ্রগুলো ইতালির এক্তিরাধীন, তবুও আইনি জটিলতার কারণে সেগুলো বর্তমানে প্রায় শূন্য পড়ে রয়েছে। ইতালির এই ‘আলবেনিয়া মডেল’ এখন অনেক ইইউ দেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তারাও নিজস্ব ‘রিটার্ন হাব’ তৈরির কথা ভাবছে। ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা যখন অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য কঠোর আইন প্রণয়নের দিকে ঝুঁকছেন, তখন আদালতের এই পর্যবেক্ষণ অভিবাসন ইস্যুতে ইউরোপের ভবিষ্যৎ রণকৌশলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তথ্যসূত্র: ইনফো মাইগ্রেন্টস বাংলা

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version