শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬   |   ২৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে আরও সম্প্রসারণ এবং নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে এক নোটিশের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। সংসদে তিনি স্মরণ করেন যে, স্বাধীনতার পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনশক্তি রপ্তানির ভিত্তি স্থাপন করেন এবং পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের আমলে এই খাত আরও সম্প্রসারিত হয়ে ২০০১ সালে পৃথক প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে দেশের ১৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ও ছয়টি মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে ৫৫টি ট্রেডের ১৩০টি পেশায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং ৫০টি উপজেলায় নতুন কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। এর পাশাপাশি, দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এক লাখ দক্ষ চালক তৈরির প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং ‘রেকগনিশন অব প্রায়র লার্নিং (আরপিএল)’ কর্মসূচির আওতায় কর্মীদের দক্ষতার স্বীকৃতি ও সনদ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া প্রবাসীদের সহায়তায় ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ এবং সাধারণ প্রবাসীদের জন্য ৮ শতাংশ সুদে জামানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বৈদেশিক শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক তৎপরতা উল্লেখ করে নুরুল হক নুর বলেন, ওমান, মালয়েশিয়া ও বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার পুনরায় চালু ও সম্প্রসারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, রোমানিয়া, পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২৮টি সম্ভাব্য শ্রমবাজারের মধ্যে ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ওমান ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে নতুন চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কাতারও সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে টেকনিক্যাল খাতে (যেমন: ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডার) কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তবে ইউরোপের বাজার নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া ও গ্রিসসহ বেশ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা সেন্টারের অভাবে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এই জটিলতা নিরসনে এবং ভিসা কার্যক্রম সহজ করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ঢাকায় নিয়মিত কনস্যুলার সেবা প্রদান করে কর্মীদের বিদেশ যাত্রা নিশ্চিত করতে পারে।

তথ্যসূত্র: ঢাকা পোস্ট 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version