বড় আকারের অনিয়মিত অভিবাসনের চাপ মোকাবিলা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বহিঃসীমান্ত আরও সুরক্ষিত করতে পাঁচ দফা নতুন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে ইউরোপীয় কমিশন।
পরিকল্পনায় ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সক্ষমতা বাড়ানো, উৎস ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার, সীমান্ত নজরদারি উন্নত, মানবপাচার ও অভিবাসন চোরাচালান চক্র দমন এবং ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশন বুধবার বলেছে, ইইউর পূর্ব সীমান্ত থেকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন সীমান্ত সাম্প্রতিক সময়ে নতুন ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন মোকাবিলায় দ্রুত ও সমন্বিত ইউরোপীয় পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন।
বিশেষ করে স্পেনের সেউটা সীমান্তে গ্রীষ্মকালীন সংকট দেখিয়েছে, কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে বড় অভিবাসন প্রবাহ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও নমনীয় ও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইইউর বর্তমান অভিবাসন ব্যবস্থার কারণে ২০২১ সালের পর অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। তবে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় সীমান্ত সুরক্ষা, অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা ও ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থায় আরও উন্নয়ন প্রয়োজন।
অভিবাসনবিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেন, ইউরোপের প্রয়োজন শক্তিশালী বহিঃসীমান্ত, কার্যকর অভিবাসন কূটনীতি, আশ্রয় ও অভিবাসন চুক্তির বাস্তবায়ন এবং বিশ্বাসযোগ্য ফেরত ব্যবস্থা।
পাঁচ দফা পরিকল্পনায় যা রয়েছে
*অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো*
অভিবাসনের মূল কারণ মোকাবিলা, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত এবং তথ্য বিনিময় বাড়াতে উৎস ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে ইইউ।
পাশাপাশি বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ তৈরি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
*ইইউর বহিঃসীমান্ত আরও শক্তিশালী করা*
ফ্রন্টেক্সের দায়িত্ব ও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মোতায়েনের জন্য আরও শক্তিশালী স্থায়ী বাহিনী, উন্নত সীমান্ত নজরদারি এবং চাপের মুখে থাকা সদস্য দেশগুলোকে অতিরিক্ত সহায়তার কথা বলা হয়েছে পরিকল্পনায়।
*নজরদারি ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত করা*
সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং নতুন অভিবাসন পথ শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়াবে ইইউ। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং অনিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করে এমন অনলাইন কার্যক্রম শনাক্তে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
*মানবপাচার ও অভিবাসন চোরাচালান দমন*
অভিবাসন চোরাচালানকারী ও মানবপাচারকারী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে কমিশন। এ ক্ষেত্রে অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা এবং ইউরোপীয় পুলিশ সংস্থা ইউরোপোলের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
*ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা কার্যকর করা*
ইইউতে থাকার বৈধ অধিকার নেই—এমন ব্যক্তিদের দ্রুত ও কার্যকরভাবে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো, ফেরত কার্যক্রমে ফ্রন্টেক্সের ভূমিকা বাড়ানো এবং পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, পাঁচ দফা পরিকল্পনাটি ১ ও ২ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ইইউর বিচার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর সামনে উপস্থাপন করা হবে।
কমিশনের মতে, সীমান্ত সুরক্ষা কোনো একটি দেশের একক দায়িত্ব নয়; এটি পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ দায়িত্ব। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে সদস্য দেশ, ইইউর বিভিন্ন সংস্থা ও কমিশনের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে।
