আগামী ২০২৮-২০৩৪ মেয়াদের দীর্ঘমেয়াদী বাজেটে বড় ধরনের পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত মূল বাজেটের চেয়ে আরও ১০ শতাংশ বা প্রায় ২০০ বিলিয়ন ইউরো অতিরিক্ত বরাদ্দের দাবি তুলেছে তারা। গত মঙ্গলবার পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত এক ভোটাভুটিতে এই প্রস্তাব বিপুল ভোটে পাস হয়। মূলত সদস্য দেশগুলোর ওপর আর্থিক চাপ না বাড়িয়ে নতুন উৎস থেকে রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা করছেন এমপিরা।
পার্লামেন্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবটি ৩৭০-২০১ ভোটে পাস হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী সাত বছরের জন্য ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত ২ ট্রিলিয়ন ইউরো বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে করোনা মহামারীর ধকল কাটিয়ে উঠতে নেওয়া ‘নেক্সট জেনারেশন ইইউ’ ঋণের কিস্তি মূল বাজেটের বাইরে রেখে আলাদাভাবে পরিশোধ করার দাবি জানানো হয়েছে।
বাজেটের এই বাড়তি অর্থের সংস্থান হিসেবে সদস্য দেশগুলোর সরাসরি চাঁদার বদলে নতুন ধরনের কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে পার্লামেন্ট। এর মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন শুল্ক, ইলেকট্রনিক বর্জ্য এবং তামাক পণ্যের ওপর বিশেষ শুল্ক আদায়ের কথা বলা হয়েছে। এই বাড়তি অর্থ মূলত তিনটি প্রধান খাতে সমানভাবে ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে: সদস্য দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার মতো বৈশ্বিক কার্যক্রম।
তবে ইউরোপীয় দেশগুলো সাধারণত বাজেট বাড়ানোর বিপক্ষে অবস্থান নেয়। সদস্য দেশগুলোর এই রক্ষণশীল মনোভাবের বিপরীতে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছেন পার্লামেন্ট সদস্যরা। পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটসোলা সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “পার্লামেন্টকে অবমূল্যায়ন করবেন না।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে পার্লামেন্টে কট্টর ডানপন্থী সদস্যদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজেট পাস করানো ইইউ নেতৃত্বের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
এখন ২৭টি সদস্য দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তাদের অবস্থান চূড়ান্ত করবে। এরপরই শুরু হবে পার্লামেন্ট ও দেশগুলোর মধ্যকার চূড়ান্ত দরকষাকষি, যা ইউরোপের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র : ইউরো নিউজ
