ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিতর্কিত ইস্যুগুলো নিয়ে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘দ্য রিং’-এ এবার আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘অভিবাসন প্রত্যাবর্তন কেন্দ্র’। ইইউ-এর সীমানার বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবিত পদক্ষেপ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন দুই প্রভাবশালী এমইপি (ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য)—জার্মানির লেনা ডুপোঁ এবং স্পেনের হুয়ান ফার্নান্দো লোপেজ আগুইলার। ২৬শে মার্চ অনুমোদিত এই নতুন সংস্কার অনুযায়ী, যাদের আশ্রয়ের আবেদন নাকচ হয়েছে, তাদের নিজ দেশে পাঠানোর আগ পর্যন্ত ইইউ-র বাইরের কোনো কেন্দ্রে রাখা হবে।
মধ্য-ডানপন্থী ইউরোপীয় পিপলস পার্টির এমইপি লেনা ডুপোঁ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, কার্যকর প্রত্যাবর্তন নীতি ছাড়া ইইউ-এর আশ্রয় ব্যবস্থা অপূর্ণ। তিনি যুক্তি দেন যে, বর্তমানে যাদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, তাদের মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ বাস্তবে ফেরত যায়। এই বিশাল ঘাটতি পূরণে ইইউ সীমান্তের বাইরের এই কেন্দ্রগুলো ‘ধাঁধার অনুপস্থিত অংশ’ হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তার ভাষায়, “একটি কার্যকর প্রত্যাবর্তন নীতি এখন সময়ের দাবি।”
অন্যদিকে, সোশ্যালিস্টস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাটস দলের হুয়ান ফার্নান্দো লোপেজ আগুইলার এই পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, ইউরোপের বাইরে অভিবাসীদের ঠেলে দেওয়া কোনো টেকসই সমাধান নয়। আগুইলার সতর্ক করে বলেন, ইইউ আইনের আওতার বাইরে এমন কেন্দ্রে অভিবাসীদের ‘মৌলিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার কোনো নিশ্চয়তা নেই’। তিনি অভিযোগ করেন যে, কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মধ্য-ডানপন্থীরা উগ্র-ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সাথে আঁতাত করে একটি নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি করেছে, যা ইউরোপের মানবিক মূল্যবোধকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
ব্রাসেলস থেকে সম্প্রচারিত এই বিতর্কে মেভ ম্যাকমাহনের সঞ্চালনায় উঠে এসেছে অভিবাসন নিয়ে ইউরোপের দ্বিধাবিভক্ত চিত্র। একদিকে নিরাপত্তার খাতিরে কঠোর ব্যবস্থার দাবি, অন্যদিকে মানবাধিকার ও আইনি সুরক্ষার প্রশ্ন। লুপেজ আগুইলারের মতে এটি অভিবাসীদের ‘দৃষ্টির আড়ালে’ পাঠানোর চেষ্টা, আর লেনা ডুপোঁর মতে এটি সিস্টেমের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা কাটানোর একমাত্র পথ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই নতুন সংস্কার শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বিতর্কের আঁচ এখন পুরো ইউরোপ জুড়ে।
