বুধবার, ২৯ই জুলাই, ২০২৬   |   ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন বায়োমেট্রিক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে বিমানবন্দরগুলোতে তৈরি হওয়া দীর্ঘ সারি ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চরম বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হয়ে এটি স্থগিতের জোর দাবি জানিয়েছিল বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরগুলো। তবে দীর্ঘ বিলম্বের আশঙ্কা সত্ত্বেও এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নে অনড় অবস্থান নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে ব্রেক্সিট-পরবর্তী নতুন এই ব্যবস্থা ‘নিখুঁত নয়’ এবং এতে ‘২০টি সমস্যাযুক্ত স্থান’ রয়েছে, তবে পুরো ব্যবস্থা স্থগিত করা ‘সম্ভব বা প্রয়োজনীয় নয়’।

ইইউ-এর নতুন প্রবেশ/প্রস্থান ব্যবস্থা (EES)-র অধীনে, ইইউ-বহির্ভূত দেশের নাগরিকদের শেনজেন এলাকায় প্রথমবার প্রবেশের সময় আঙুলের ছাপ ও মুখের ছবি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত করতে হয়। এরপর প্রতিবার যাতায়াতের সময় তা যাচাই করা হয়।

স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি ও বেলজিয়ামের মতো জনপ্রিয় অবকাশ কেন্দ্রগুলোতে “বিশৃঙ্খলাপূর্ণ সারি” ও ফ্লাইট মিস হওয়ার সতর্কবার্তা দিয়ে আগামী গ্রীষ্ম পর্যন্ত এই নিয়ম স্থগিত রাখার দাবি তুলেছিল বিমান সংস্থাগুলোর সংগঠন আইএটিএ এবং রায়ানএয়ার।

তবে ইইউ কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশে এই ব্যবস্থা বন্ধ রেখে অন্য দেশে চালু রাখা অসম্ভব। এতে যাত্রীরা বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। যেমন—একজন যাত্রী নতুন ব্যবস্থা চালু থাকা কোনো সীমান্ত দিয়ে ঢুকে ব্যবস্থা স্থগিত থাকা সীমান্ত দিয়ে বের হলে, তাকে ৯০ দিনের সীমা অতিক্রমকারী হিসেবে ভুলবশত কালো তালিকাভুক্ত করা হতে পারে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১,৫০০টি সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়েছে মাত্র ২০টি স্থানে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, একটি ছোট আঞ্চলিক বিমানবন্দরে প্রতি ঘণ্টায় ৩,০০০ যাত্রী নেমে আসায় মাত্র চারটি বুথ দিয়ে দ্রুত পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে লিসবনে অতিরিক্ত কর্মী বাড়িয়ে ইতোমধ্যে ভিড় কমানো হয়েছে এবং ব্রাসেলস বিমানবন্দরে ফ্রন্টেক্স সীমান্ত সংস্থার ৫০ জন অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

ফরাসি প্রযুক্তির ত্রুটির কারণে ইউরোটানেলে ৮০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ সত্ত্বেও গাড়ি চালকদের বায়োমেট্রিক নেওয়ার বিশেষ ট্যাবলেট এখনও পুরোপুরি চালু করা যায়নি। এমনকি যাত্রীদের স্বস্তি দিতে ‘ফ্রন্টেক্স’-এর তৈরি একটি পূর্ব-নিবন্ধন মোবাইল অ্যাপও এখন পর্যন্ত কেবল সুইডেন ও পর্তুগালে চালু রয়েছে।

সারি সামলাতে না পারলে সাময়িকভাবে পরীক্ষা স্থগিতের একটি আইনি সুবিধা ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে দিয়েছিল, যার মেয়াদ আগামী সেপ্টেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো দেশ এই মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেনি।

ইইউ জানিয়েছে, শুরুর পর থেকে এই ব্যবস্থার অধীনে ইতোমধ্যে ১১ কোটি মানুষের যাতায়াত সফলভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া, দ্বৈত পাসপোর্টধারী বা জাল নথি ব্যবহারকারী প্রায় ৪৪,৫০০ জনকে বেআইনি প্রবেশের চেষ্টার সময় সীমান্তে আটকানো সম্ভব হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে ১,০০০ জনেরও বেশি লোককে এবং জাল পাসপোর্ট ব্যবহারের দায়ে ৩০০ জনকে শনাক্ত করেছে এই আধুনিক সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version