মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬   |   ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর অবস্থান ও সীমান্ত কড়াকড়ি নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হচ্ছে। ইউরোস্ট্যাট-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের ভূখণ্ড ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য প্রায় ৪ লাখ ৯২ হাজার অভিবাসীকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করেছে। এই সংখ্যাটি তার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি, যা ইউরোপের কড়া অভিবাসন নীতিরই স্পষ্ট প্রতিফলন।

শুধু দেশ ছাড়ার নির্দেশ জারি করেই ক্ষান্ত থাকেনি ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ, বরং অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের জোরপূর্বক নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) হারও এবার অতীতের রেকর্ড ছুঁয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর ইইউভুক্ত দেশগুলোর সীমানার বাইরে প্রকৃতপক্ষে ডিপোর্ট বা বহিষ্কার করা অভিবাসীদের সংখ্যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার ছাড়িয়েছে। আর এই ব্যাপক বহিষ্কার বা ডিপোর্টেশনের তালিকায় ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সবার শীর্ষে রয়েছে জার্মানি। জার্মানির পরেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক অভিবাসী ডিপোর্ট করে কঠোর অবস্থান দেখিয়েছে ফ্রান্স ও সুইডেন। অন্যদিকে, ইইউ থেকে সবচেয়ে বেশি বহিষ্কৃত হওয়া নাগরিকদের তালিকায় শীর্ষ চারটি দেশ হলো তুরস্ক, জর্জিয়া, সিরিয়া এবং আলবেনিয়া।

একই সাথে ইউরোপের উন্মুক্ত সীমান্ত নীতি বা শেনজেন জোনের প্রবেশদ্বারগুলোতেও নজরদারি ও কড়াকড়ি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত বছর ইইউ-এর বাইরের অন্তত ১ লাখ ৩২ হাজারের বেশি মানুষকে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না দিয়ে সীমান্ত থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের তালিকায় সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের নাগরিকেরা। ইউরোস্ট্যাট-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এতটা কঠোর ও নিশ্ছিদ্র করার কারণেই মূলত ইউরোপে অবৈধ অনুপ্রবেশের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আর এর প্রত্যক্ষ ফলস্বরূপ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে বর্তমানে অবৈধভাবে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা এক ধাক্কায় প্রায় ২২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version