শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপের দিকে এগোচ্ছে। ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি এখন ইউরোপজুড়ে জোরালো হয়ে উঠেছে। ফ্রান্স ও ডেনমার্ক ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নিজস্ব কঠোর আইন পাস করেছে। এমনকি স্পেন এই বয়সসীমা ১৬ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর কথা ভাবছে। গ্রিসসহ অন্যান্য ইইউ সদস্য দেশগুলো এখন পুরো ইউরোপে একটি অভিন্ন ও শক্তিশালী নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ব্রাসেলসকে চাপ দিচ্ছে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ঢিলেমি বন্ধ করতে গত ১৫ই এপ্রিল ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ইইউ-র নিজস্ব ‘এজ ভেরিফিকেশন’ বা বয়স যাচাইকরণ অ্যাপের ঘোষণা দিয়েছেন। এই অ্যাপটি ব্যবহারকারীর অফিশিয়াল ডিজিটাল আইডির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে বয়স যাচাই করবে। এখানে ‘জিরো নলেজ প্রুফ’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে টিকটক বা ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীর বয়স উপযুক্ত কি না তা জানতে পারলেও কোনো ব্যক্তিগত তথ্য বা পরিচয়পত্র দেখতে পাবে না। এই ওপেন সোর্স অ্যাপটি খুব সহজেই যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সাথে যুক্ত করা সম্ভব।
বর্তমানে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক এবং স্ন্যাপচ্যাট—এই চারটি জনপ্রিয় মাধ্যম শিশুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ইইউ-র কঠোর তদন্তের অধীনে রয়েছে। কমিশনের শিশু সুরক্ষা প্যানেল এই গ্রীষ্মেই তাদের চূড়ান্ত রায় প্রদান করবে বলে জানা গেছে। ফন ডার লিয়েন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, শিশুদের সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো অজুহাত আর গ্রাহ্য হবে না। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে ইউরোপের কয়েক কোটি কিশোর-কিশোরীর ডিজিটাল জীবন আমূল বদলে যেতে পারে।
