পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে তীব্র গরমের কারণে মে মাসে এযাবৎকালের সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন এবং যুক্তরাজ্যে গরমের পারদ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক উপরে উঠে গেছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই তীব্র গরমের পরিস্থিতি আরও বেশ কয়েকদিন ধরে চলতে পারে। ইতিমধ্যেই ফ্রান্সের ৩৫০টিরও বেশি শহরে মে মাসের আগের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
ফ্রান্সের আবহাওয়া দপ্তর ‘মেটিও ফ্রান্স’ জানিয়েছে, দেশের মূলত পশ্চিমাঞ্চলের ৩৫২টি আবহাওয়া কেন্দ্রে মে মাসের নতুন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিমের হোসেগোর এলাকায় সবচেয়ে বেশি—৩৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখা গেছে। রাজধানী প্যারিসে তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কিউ গার্ডেন্সে ৩৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ বছরের মে মাসের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। তীব্র গরমের কারণে গত রবিবার প্যারিসের কাছে একটি দৌড় প্রতিযোগিতার সময় এক ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এবং আরও ১০ জন দৌড়বিদকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্পেনের আবহাওয়া দপ্তর ‘এইমেট’ (Aemet)-এর পক্ষ থেকে রুবেন দেল কাম্পো জানিয়েছেন, স্পেনে এই তীব্র গরম পুরো সপ্তাহজুড়ে চলতে পারে। সপ্তাহের শেষে দেশের কিছু অংশে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। এছাড়া আরেকটি চিন্তার বিষয় হলো, স্পেনের বেশিরভাগ অংশে এখন ‘ক্রান্তীয় রাত্রি’ দেখা যেতে পারে, যার অর্থ হলো রাতেও তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামবে না।
গরমের তীব্রতা বাড়ায় ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডের ৯৬টি এলাকার মধ্যে ৩১টি এলাকায় উচ্চ-তাপমাত্রার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি এলাকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তরের ‘অরেঞ্জ’ বা কমলা সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের সাবধান থাকতে বলা হয়েছে। ২০০৪ সালে এই নিয়ম চালু হওয়ার পর, ফ্রান্সের ইতিহাসে এই প্রথম মে মাসে এমন জাতীয় তাপ সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালু করা হলো।
আবহাওয়াবিদদের মতে, একটি ‘তাপ গম্বুজ’ বা হিট ডোমের কারণে এই রেকর্ড তাপমাত্রা তৈরি হয়েছে। এর ফলে মরক্কো থেকে আসা গরম বাতাস একটি উচ্চচাপ বলয়ের নিচে আটকা পড়েছে। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে এই ধরনের গরম পড়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় ১০ গুণ বেশি। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে এই গরমের মৌসুম আরও বড় হবে এবং আগামী দিনে এপ্রিল ও অক্টোবর মাসেও এমন তীব্র গরম দেখতে পাওয়া যেতে পারে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
