মাঝ আকাশে উড্ডয়নরত বিমানের জানালা ভেঙে কেবিনের ভেতরের বাতাস ও চাপের তীব্র টানে এক যাত্রী আংশিকভাবে জানালার বাইরে ছিটকে পড়েন। এমন ভয়াবহ ও অলৌকিক ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে ইউরোপীয় বিমান সংস্থা ‘রায়ানএয়ার’-এর একটি ফ্লাইটকে।
শুক্রবার গ্রিসের থেসালোনিকি বিমানবন্দরে বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য করা হয়। দুর্ঘটনাটি ঘটে থেসালোনিকি বিমানবন্দর থেকে বিমানটি উড্ডয়ন করার ঠিক কিছুক্ষণ পরেই। গ্রিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং রয়টার্সের দুটি ঘনিষ্ঠ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটির ইঞ্জিনের একটি অংশ উড্ডয়নের পর হঠাৎ আলগা হয়ে ছিটকে আসে এবং সজোরে বিমানের একটি জানালায় আঘাত করে। এতে জানালাটি মুহূর্তেই ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় এবং কেবিনের ভেতরের বায়ুচাপ তীব্রভাবে কমে যায়। এই চাপের টানে জানালার পাশে বসা এক যাত্রী আংশিকভাবে বিমানের বাইরে চলে যান।
কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাইরে ছিটকে যাওয়া ওই ভুক্তভোগী একজন ৬১ বছর বয়সী সার্বিয়ান পুরুষ। ঘটনার সময় তাঁর পাশেই বসা এক নারী যাত্রী দ্রুত ও অসীম সাহসিকতার সাথে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে শক্ত করে ধরে ফেলেন। ওই নারীর সময়োপযোগী এই সাহসী হস্তক্ষেপের কারণেই নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান সার্বিয়ান নাগরিক। এক প্রত্যক্ষদর্শী গ্রিক টেলিভিশন চ্যানেল ‘ইআরটি’ (ERT)-কে বলেন, “তীব্র বাতাসে তাঁর মাথা এবং কাঁধ পুরোপুরি বিমানের বাইরে চলে গিয়েছিল।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিমানের ভেতরের কিছু ভিডিওতে (যা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও যাচাই করা হয়নি) দেখা গেছে, বিমানের একটি জানালা সম্পূর্ণ ভাঙা এবং ছাদ থেকে জরুরি অক্সিজেন মাস্কগুলো নিচে ঝুলছে। ঘটনার পর কেবিনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রায়ানএয়ার কর্তৃপক্ষ ফ্লাইট চলাকালীন জানালা ভেঙে যাওয়ার কারণে জরুরি অবতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ঘটনার পর এক যাত্রীকে দ্রুত প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। তবে কারিগরি ত্রুটির মূল কারণ সম্পর্কে বিমান সংস্থাটি এখনও বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
জার্মানির মেমিঙ্গেন বিমানবন্দরগামী এই বিমানটি দুর্ঘটনার পরপরই গতিপথ পরিবর্তন করে থেসালোনিকি বিমানবন্দরেই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে স্বাভাবিকভাবে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। এরপর বিমানের সব যাত্রীকে নিরাপদে টার্মিনালে ফিরিয়ে আনা হয়।
তথ্যসূত্রঃ এসআইসি নোটিসিয়াস
