শনিবার, ৭ই মার্চ, ২০২৬   |   ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়া ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে ইউরোপের পাঁচটি দেশ একটি যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক এবং গ্রিস মিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমানার বাইরে তথাকথিত ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের এক বৈঠকের পর নেদারল্যান্ডসের আশ্রয় ও অভিবাসন মন্ত্রী বার্ট ভ্যান ডেন ব্রিঙ্ক এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এই পাঁচটি দেশ একটি ‘ফ্রন্টরানার গ্রুপ’ হিসেবে কাজ করবে এবং কোন অ-ইউরোপীয় দেশগুলো এই কেন্দ্রগুলো স্থাপনে রাজি হতে পারে, তা নিয়ে যৌথভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাবে।

নেদারল্যান্ডসের বর্তমান জেটেন  সরকার আগের প্রশাসনের উগান্ডায় হাব তৈরির সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবটি বাতিল করলেও, সামগ্রিকভাবে ইউরোপের বাইরে কেন্দ্র স্থাপনের কৌশল থেকে সরে আসেনি। মন্ত্রী ভ্যান ডেন ব্রিঙ্ক স্পষ্ট করেছেন যে, এই হাবগুলোতে অভিবাসীদের মানবাধিকার রক্ষা করা হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও কোন দেশে এই কেন্দ্রগুলো তৈরি হবে তা এখনই প্রকাশ করা হয়নি, তবে এই লক্ষ্য অর্জনে পাঁচটি দেশ তাদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

তবে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রজেক্ট বাস্তবায়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্লিনজেনডেল ইনস্টিটিউটের এক সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইউরোপের বাইরে এমন কেন্দ্র স্থাপন করা মোটেও সহজ হবে না। খুব কম দেশই তাদের মাটিতে এই ধরণের বিতর্কিত কেন্দ্র স্থাপনে আগ্রহী। আর যারা রাজি হবে, তারা ইউরোপের কাছ থেকে বিশাল অংকের আর্থিক সুবিধা দাবি করতে পারে, যার ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষে কঠিন শর্তারোপ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, এই জোটটি সফল হলে ভবিষ্যতে ইউরোপের অন্যান্য দেশকেও এই প্রক্রিয়ায় শামিল করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version