বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে ব্রিটিশ নাগরিকদের অবকাশকালীন বাড়ি কেনার সুযোগ বন্ধ হতে পারে। স্থানীয়দের আবাসন সংকট ও বাড়ির আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে জোটের বাইরের নাগরিকদের জন্য হলিডে হোম বা দ্বিতীয় বাড়ি কেনার প্রক্রিয়া আরও কঠিন করতে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। স্পেনের মতো জনপ্রিয় পর্যটন দেশগুলোর চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যারা আবাসন বাজারে বিদেশিদের অতিরিক্ত বিনিয়োগকে বাড়িঘরের দাম বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আলোচিত ‘অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং অ্যাক্ট’ বা সাশ্রয়ী আবাসন আইনটি পুরো ইউরোপজুড়ে একটি অভিন্ন আইনি রূপরেখা তৈরি করবে। এর মাধ্যমে সংকটাপন্ন আবাসন এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে স্থানীয় প্রশাসনকে তাদের নিজস্ব বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ দেওয়া হবে—যদি সেই পদক্ষেপগুলো ‘সুনির্দিষ্ট, প্রয়োজনীয় এবং আনুপাতিক’ হয়।

এই আইনের কারণে স্পেন, পর্তুগাল এবং ফ্রান্সের স্থানীয় প্রশাসনগুলো পর্যটন এলাকায় এয়ারবিএনবি নিষিদ্ধ করাসহ বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বাড়তি আইনি ভিত্তি পাবে, যেমনটি ইতিমধ্যে স্পেনের বার্সেলোনা শহরে ঘটেছে। দেশগুলো যদি এই ধরনের পদক্ষেপে আরও কঠোর হয়, তবে ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য বিদেশে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে দ্বিতীয় বাড়ি কেনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ডাচ সদস্য ডার্ক গটিঙ্ক উল্লেখ করেছেন যে, এই আইনটি পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় বাড়ি কিনতে চাওয়া ব্রিটিশদের জন্য ‘গুরুতর পরিণতি’ ডেকে আনবে। তবে তিনি জানান, এই নতুন নিয়মগুলো মূলত স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, ইতালি এবং ফ্রান্সের জনপ্রিয় পর্যটন হটস্পটগুলোতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে। গটিঙ্ক মনে করেন, এই আইন দিয়ে ইউরোপের আবাসন সংকট পুরোপুরি মেটানো যাবে না। তাঁর মতে, এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো যৌথ আইনের প্রয়োজন নেই; কারণ আবাসন সংকট কোনো সামগ্রিক ইউরোপীয় সমস্যা নয়, এটি প্রতিটি দেশের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

এদিকে স্পেনের রক্ষণশীল দল ‘পিপলস পার্টি’র ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য বোরজা গিমেনেজ লারাজ জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বাড়ি কেনার ওপর এই নতুন আইনের সম্ভাব্য বিধিনিষেধ নিয়ে তিনি ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version